মানুষ কেবল জানতে পারেনি সেদিন সেই মানুষের শুভাগমনের যার আগমনে বহুদিন বহুবছর বহুকাল পর মানুষের এই পৃথিবীতে অন্ধকার র ভয় পেয়ে আবার কাঁপতে থাকে, আলোকের আদিগন্ত উন্মোচনে দিশেহারা হয়ে পালাতে থাকে অন্ধকার। সেই আলোকে যখন দশদিগঞ্জ উাসিত ে বিভ্রান্ত মানুষ জানতে পারে তার আগমনের সংবাদ। কারণ, অন্ধকারের বিরুদ্ধে
জেহাদ করার জন্যই যে তার আগমন। সেই অন্ধকার যখন বিদুরিত হতে তখন মানুষ জেনে যায় আলোর খবর- সে আলো ছড়িয়ে পড়ে সবখানে।
আলোর সেই শামাদান হৃদয়ে ধরে তিনি এসেছেন। সে শামাদান জ্বলছে। আল্লাহ্ প্রেমের অনির্বাণ প্রদীপ হয়ে জ্বলছে। যে প্রেমে জেগে উঠেছিলো একবার মক্কার ময়দান, কথা কয় উঠেছিলো মদীনার মাটি। যে গেম বার বার জ্বলে। যুগে যুগে জ্বলে উঠে পৃথিবীর বিশাল প্রান্তরে, কখনো আরবে, কখনো আজমে, কখনো মরুতে, কখনো শ্যামল প্রান্তরে।
আল্লাহপাকের ইচ্ছা- আবার জ্বলে উঠুক বিশ্বপ্রেমের সেই আলো। তার লীলাখেলা কেউ বুঝে না। তিনি যা ইচ্ছা করে তাই হয়। আমরা তা বুঝতে পারি না। একমাত্র তিনিই জানেন, কখন কি করতে হবে এবং সে ভাবেই সবকিছু হতে থাকে। তিনি প্রেমের বাণী নিয়ে পাঠালেন তাঁর মেহমানকে। বুকে তার মের প্রদীপ। চোখে রহস্যালো জ্যোতিটো। জান্নাতি পৰিত্রতা নিয়ে সেই মেহমান এলেন- নতুন মেহ
মেহমানের নাম মোহাম্মদ ৰাকী। নগরীর নাম কাবুল। সেই ন
মাওলানা তাঁকে সাগরে কবুল করলেন। তিনি তো মোহাম্মদ বাকীকে দেে
লাগলেন।
মোহাম্মদ বাকী পরম প্রভাতরে যে সমস্ত অমূল্য অর্জন করতে লাগলেন। মেধার গুণে অল্পদিনের মধ্যেই তিনি অনেক কিছু হাসিল করলেন। এলেমে বুৎপতি আপনি করলেন।
সবাই তাজ্জব হয়ে দেখলেন তাঁর বৈশিষ্ট্য ও যোগ্যতার কারুকার্য। সমসাময়িক লোক ও সহপাঠিদের মধ্যে নির্ধারিত হলো তাঁর বিশেষ মর্যাদা।
মাওলানা সাদেক ছালওয়ারী একবার সফরে যাবেন স্থির করলেন। মাজরা উন্নাহার। অনেক দূরের শহর। সঙ্গে যাবেন মেহাম্মদ বাকী। প্রিয় শাগরিদ বাকী। মোহাম্মদ বাকী প্রস্তুত হলেন। তাদের সঙ্গে সফরে যেতে
অজানা সফর। সঙ্গে
পাথুরে পথ। কখনো থাকা। কখনো চড়াই। কখনো উরাই। বন্ধুর যাত্রাপথ। বিচিত্র নিসর্গের সমাবেশ সেই পথে। পৃথিবী কতো বড়, পৃথিবীতে কতো মানুষ আছে কে জানে। কোথায় কোথায় তারা বাস করে। সবখানেইতো সূর্য । ওঠে। আবার যথানিয়মে ডুবে যায়। সবখানেইতো বাতাস বয়। ফুল ফোটে। পাখি গান গায়। শিশু কাঁদে। সবখানেইতো মায়ের স্নেহ ও পিতার শাসন। সবখানেতো হিংসা বিদ্বেষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সবখানেইতো ভালোবাসা। সবখানেইতো সুন্দর আর অসুন্দররের সহাবস্থান। সবখানেইতো আলো-আধার, রাত-দিন। তবুও বৈচিত্রের
শেষ নেই। সীমা নেই।
মোহাম্মদ বাকী গুস্তাদের সঙ্গে মাজরা উন্নাহার পৌছলেন। কেতাবের পাঠ মনে হয় এখানেই শেষ করতে হবে। এবার কেতাবের মালিকের মজলিশে হাজির হতে হবে। কিন্তু কোথায় সে মজলিশ? কে তার খবর জানে?
সেই মজলিশের অন্বেষায় হৃদয়ের প্রবল জোয়ার যে সবকিছু সয়লাব করে দিতে চায়। অন্তরে যে সেই উথাল পাথাল, পাগল করা নেশা।
জাহেরী এলম শিক্ষা তখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি। কিন্তু না। আর তো
বিলম্ব সয় না। পাঠ শেষ করতে হবে।
মোহাম্মদ বাকী জাহেরী এলেমের শিক্ষা মাঝ পথেই শেষ করলেন। তাঁর জনয়ে যে আগুন। কে বুঝবে এ কিসের আগুন। তীব্র এ দহনের শেষ কোথায়? অন্বেষণের আগুন হৃদয়ের গহনে যে তীব্র দহনের জ্বালা সৃষ্টি করেছে।
তামাম মখলুকের এই যে বাহ্যিক রূপ, এই যে বিশাল বৈচিত্রময় সৃষ্টি- তার আড়ালে সেই নিপুণ সৃষ্টিকর্তা কি কেবল অদৃশ্যেই অবস্থান করেন? নাকি