দরসে বুখারী (কিতাবুল মাগাধী-১)
‘উশাইরা’ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
দ্বিতীয় হিজরী। ২ রা জমাদিউল আউয়াল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু'শ মুহাজির সাহাবী সাথে নেন। কুরাইশের একটি বাণিজ্য কাফেলা উশাইরা হয়ে সিরিয়া থেকে আসছিল। তিনি সেই কাফেলা আক্রমণের উদ্দেশ্যে বের হন। বাহন হিসাবে সাথে ত্রিশটি উট নেন। এতে সাহাবায়ে কিরাম পালাক্রমে আরোহন করেন ।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে পৌছার পূর্বেই কাফেলাটি চলে যায়। তারপর তিনি জমাদিউল আউয়াল মাসের অবশিষ্ট দিনগুলো এবং জমাদিউস সানীর কয়েক রাত সেখানে অবস্থান করেন। এবং বনি মুদাল্লিজ এর সাথে সন্ধি চুক্তি করে কোন যুদ্ধ ছাড়াই সেখান থেকে মদীনায় ফিরে আসেন ।
অভিযানগুলোর কারণ
একথা সর্বজন বিদিত যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম নবী হিসেবে আবির্ভাবের পর যখন গোপনে পরে প্রকাশ্যে মক্কার কুরাইশদেরকে মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি দাওয়াত দিতে লাগলেন, তাদেরকে প্রতিমা পুজা ত্যাগ করতে বললেন, তখন অজ্ঞ কুরাইশের লোকেরা যারপরনাই মারমুখী হয়ে ওঠলো। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর অনুসারীদের ওপর নির্যাতনের স্টীমরোলার চালাতে লাগলো। ক্রমান্বয়ে তাদের নির্মম নির্যাতনের কারা আরো বেড়ে যেতে লাগলো ৷
ভাই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ অভীষ্ট হয়ে আল্লাহ তা'আলার হুকুমে মদীনায় হিজরত করলেন। কিন্তু মদীনায় আসার পরেও কুরাইশের কোপদৃষ্টি থেকে রেহাই মিলেনি। বরং তারা মদীনার আশপাশের ইহুদী গোত্রগুলোর সাথে একত্ব হয়ে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে পৃথিবী থেকে ধুলিস্যাত করার হীন চক্রান্ত করে। এমতাবস্থায় আয়াতে কারীমা নাবিল হয়ঃ
أذنَ لِلَّذِينَ يُقَاتِلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا
অর্থ ঃ তাদেরকে (মুসলমানদেরকে) যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল, যারা আক্রান্ত হয়েছে। কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। (সূরা হজ্জঃ ৩৯)। উল্লেখ্য যে, কুরাইশের সে সময়ে আয়ের সর্ববৃহৎ উৎস ছিল সিরিয়ার সাথে বাণিজ্য। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাবলেন, কুরাইশের উদ্ধত বন্ধ করতে হলে সর্বপ্রথম তাদেরকে অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু করতে হবে।
১৯৮৫ ইং মুতাবিক ১৪০৫ হিজরীতে দারুল উলুম দেওবন্দ হতে আসার পর মরহুম আব্বাজান মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা মাযহারুল হক সাহেব রহ.-এর সম্মতিক্রমে আমার হাদীসের খিদমত সূচনা হয়। 'সিহাহ সিত্তা'র প্রায় সকল কিতাবের দরস দেয়ার সুযোগ আল্লাহ পাক আমাকে দান করেন। কিন্তু সহী বুখারী শরীফের খিদমত ছিল আংশিকাকারে। পরবর্তীতে গত ২০০৪ ইং সনে ফিদায়ে মিল্লাত, কুতুবুল 'আলম, আওলাদে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লামা সায়্যিদ আস'আদ মাদানী রহ.-এর ইজাযতক্রমে জামিয়া আরাবিয়া খাদিমুল ইসলাম মিরপুর ১৩, ঢাকাতে মুকাম্মাল সহীহ্ বুখারী শরীফের খিদমত করার সুযোগ হয়।
বুখারী শরীফের এ দরস প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ যেমন উমদাতুল কারী, ফতহুল বারী, ঈযাহুল বুখারী, ফযলুল বারীসহ বিভিন্ন গ্রন্থ আমার মুতালা'আ করতে হয়েছে। আমার এ তাকরীর সংকলনের অনুমতি
চাওয়া হলে ছাত্রদের ফায়দার প্রতি লক্ষ্য রেখে আমি এর অনুমতি প্রদান করি। বক্ষমান গ্রন্থের সংকলক আমার স্নেহাস্পদ ছাত্র মাওলানা ইলিয়াস হাসান এ কাজে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। আল্লাহ পাকের দরবারে তার এমন কাজে আরো সফলতা ও উন্নতি কামনা করছি এবং দোয়া করছি মহান আল্লাহ তাকে উভয়
জাহানে কামিয়াব করুন।
পরিশেষে কামনা করি, আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে যেন মুহাদ্দিসীনে কিরামের দলে শরীক করে নেন। আমীন।
