ফকিরির আসল কথা
এই সেই জগৎ-বিখ্যাত মধি, ধাঁর নামটি পবিত্র কোরান শরিফে একশ পারিশ বার উদ্বোগ করা হয়েছে। এই সেই যদি থাকে আল্লাহ্, কালিমুল্লাহ, খেতাবটি প্রদান করেছেন। আর সেই মণির নামটি হলো হজরত মুসা কালিমুল্লাহ। কালিমুল্লাহর অর্থটি হলো আল্লাহর কালাম আর সেই অভাবনীয় কালাম খেতাবটি হজরত মুসাকে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ্ পাক অসীম । তাঁর কালাম তথা জ্ঞানও অসীম। সীমার দেয়ালে বাঁধা যায় না। অথচ এই সেই মুসা কালিমুল্লাহ যিনি আল্লাহর মনোনীত আবদুহর কাছে জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে ধৈর্যই ধারণ করতে পারলেন না। আবদুহু বলেছিলেন : যদি আপনি তিনবার ধৈর্য ধারণ করতে না পারেন তাহলে আপনার দর্শন নিয়ে আপনি থাকুন, আর আমার দর্শন নিয়ে আমি থাকি। পবিত্র কোরান-এর ভাষায় 'কালা হাজা ফারিকু বাইনি ওয়া বাইনিকা' তথা আবদুহু বললেন, "আপনার মাঝে আর আমার মাঝে এখানেই পার্থক্য।' আল্লাহ্ পাক যাঁকে কালিমুল্লাহ্ খেতাবটি দিয়েছেন সেই মুসা নবিও আবদুহুর জ্ঞান অর্জন করতে পারলেন না। এমনকি ধৈর্যই ধারণ করতে পারলেন না। জ্ঞান যে অসীম, জ্ঞানকে যে সীমার দেয়ালে বেঁধে রাখাই যায় না তারই প্রমাণ হলো আবদুহ আর মুসার মধ্যে। হজরত মুসা নবি অবশ্যই এলমে গায়েব জানতেন এবং আল্লাহ্র আবদুহু তাঁর চেয়ে অনেক-অনেক বেশি এলমে গায়েব জানতেন। আমরা গালি দেবার ভাষায় বলছি না। আমরা অতি সাধারণভাবে বলছি যে, মুসলমানদের মধ্যে যে তিয়াত্তরটি ফেরকা বা ভাগ আছে তার মধ্যে ওহাবি ফেরকা, সালাফি ফেরকা, বাটালতি ফেরকা, চাকরালতি ফেরকা, আলবানি ফেরকা, আহলে হাদিস ফেরকা, দুরুজ ফেরকা, মুতাজিলা ফেরকা, কাদিয়ানি ফেরকা এবং বুরহানিয়া ফেরকার মতো আরও কিছু কিছু ফেরকা আছে যারা নবি-রাসুল-ওলি-গাউস-কুতুব- আবদাল-আরিফ-মঞ্জুর-মাস্তান -মুফতাখারাগুয়ে-সোহাগি সারেঙ্গি-নারেঙ্গি-মুনি- ঋষি-সেইণ্য-জিমনোসোফিস্টরা যে এলমে গায়েব জানেন তাহা তাহারা মেনে নেয় না। এই সকল ফেরকার অনুসারীদেরকেও দোষ দেওয়া যায় না। কারণ যারা সীমিত জ্ঞান নিয়ে খুশি থাকে তাদের কাছে অসীম জ্ঞানের কথা বলতে মানা। এসব শুনলে তাদের শরীরে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়ে যায়। হজরত মুসা নবি এবং আল্লাহর আবদুহুর মধ্যে পরিষ্কার ফুটে উঠে যে জ্ঞান অসীম এবং এই অসীম জ্ঞানের অধিকারী তাঁরাই হয়ে থাকেন যাঁরা আল্লাহ জাল্লাশানহুর একদম মনোনীত। তাই ইমামে কেবলা তাইনে,
ফকিরির আসল কথা
কলগুলি তথা হৃদয়গুলো আল্লাহর আরশ তথা সিংহাসন। একটু খেয়াল করতে বলছি, এখানে আমানু তথা ইমানদারের কলব বলা হয়নি, এখানে মুসলমানদের কথা বলা হয়নি, এখানে আলবাবদের কথা বলা হয়নি, এখানে আফসারদের কথা বলা হয়নি, শুধুমাত্র মোমিনদের কথাই বলা হয়েছে। সুতরাং মোমিনরাই আল্লাহ্র আইকন, তথা এফিজি, তথ্য প্রতিচ্ছবি। তাই সুফিবাদের অন্যতম গুরুঠাকুর বাবা শামসে তাবরিজ-এর মুরিদ ও খলিফা মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি দুইরকম করে বলে গেছেন। মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি বলেছেন, 'ম্যায় নে নে হামুরুদ মি শুফতে আনাল হক, দার সুরাতে মানসুর, মানসুর না বুদা বারাদার বারামাত' তথা না না আমি আল্লাহ্ই বলেছি আনাল হক মনসুর হাল্লাজের সুরতে, মনসুর হাল্লাজ বলেন নাই। সর্বশক্তিমানই বলেছেন। অন্যত্র মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি বলেছেন, 'পীরেরা জাতে খোদা এক নাদিদ, নাই মুরিদু, নাই মুরিদু নাই মুরিদু' তথা পীরের জাত আর আল্লাহর জাত এক ও অভিন্ন। এই এক ও অভিন্ন যারা দেখতে পায় নাই তারা এখনও মুরিদ হয় নাই, মুরিদ হয় নাই, মুরিদ হয় নাই। খাজা বাবার পীর ও মুর্শিদ কেবলায়ে কাবা খাজা ওসমান হারুনি বলেছেন, 'তু জুমলা ফানা গাসতে বতু হে চুনা মুন্দা, খাহেকে আনাল্লাহে বণ্ড খাহেকে হু আল্লাহ্' তথা যিনি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহতে ফানা হয়ে গেছেন ইচ্ছা হয় বলুক সে আল্লাহ্ অথবা তিনি আল্লাহ্। হাজা হাবিবুল্লাহ, মাতা ফি হুবুল্লাহ্, শাহেন শাহে ওলি, আফতাবে গুলি, সুলতানুল হিন্দ, হিন্দাল ওলি, আতায়ে রসুল সৈয়দ মওলানা মইনউদ্দিন হাসান সানজারি আল হোসাইনি আল হাসানি আওলাদে ইমাম আলি রেজা বলেছেন, 'লা শাইখুন ইল্লা ইবলিশ শাইখুন'- তথা যার পীর নাই তার পীরই হলো একমাত্র ইবলিশ। এইভাবে হাজার হাজার দলিল প্রমাণ তুলে ধরা যায়। কিন্তু ওহাবি-সালাফিদের কাছে এইসব দলিলের কোনো দামই নাই। এইসব দলিল দেখলে তারা বলে, নাউজুবিল্লাহ! নাউজুবিল্লাহ! ওহাবি সালাফিদের কোনো দোষ নাই, কারণ তারা এই নাউজুবিল্লাহ তকদিরটি নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন। ওহাবি-সালাফিরা ওলি-গাউস-কুতুব-আবদাল আরিফ-মুফতাখারাজুয়ে-মাঞ্জুর-মাস্তান-সোহাগি সারেঙ্গি-নারেঙ্গি-মুনি-ঋষি- সেইন্ট এবং জিমনোসোফিস্টদের মেনে নেওয়া তো দূরের কথা বরং হরহামেশা যা-তা মন্তব্য করে। সুতরাং ওহাবি-সালাফি ভাইয়েরা, আপনারা আপনাদের চিন্তাধারা নিয়ে থাকুন, আর আমরা আমাদের চিন্তাধারা নিয়ে থাকি। কোরান-এর ভাষায়, “কালা হাজা ফারিকু বাইনি ওয়া বাইনিকা। তাহলে পরিষ্কার বুঝতে পারা যায় যে, ধর্মের মূল বিষয়টি হলো, পবিত্র