আল্লাহ তায়ালার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগত সমূহের মালিক। হাজারও দরূদ ও সালাম জানাই নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে, যিনি খাতামুন নাবীয়্যিন, সায়্যেদুল মুরসালীন, অসংখ্য ও অগণিত মু'জিযার অধিকারী, যাকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে নূর ও জগতসমূহের রহমত বলে ঘোষনা করেছেন। যুগে যুগে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত মানুষকে স্বীয় 'আল্লাহ' তত্ত্ব তথা স্রষ্টাত্ব ও সৃষ্টি রহস্যের মূল নকশা 'মুহাম্মাদ' পরিচিতি ও ইহলৌকিক জীবনলীলা সাঙ্গ করে তারই জাতে হক্কে সফল প্রত্যাবর্তনের রাহ তথা রাস্তা দেখাতে প্রেরণ করেছেন বহু নবী-রাসূল। নবুয়াত ও রেসালাত শেষ হওয়ার পর বেলায়েতের ধারা আজও বিদ্যমান রয়েছে।
নবুয়াত ও বেলায়েত শব্দ দুটি খুবই পরিচিত। আমরা সাধারণভাবে বলে থাকি নবীদের ক্ষেত্রে নবুয়াত এবং ওলীদের ক্ষেত্রে বেলায়েত। প্রত্যেক নবীই নবুয়াত ও বেলায়েত এর ধারক ছিলেন। সর্বযুগেই বেলায়েতের অস্তিত্ব ছিল। যেমন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর যুগে বেলায়েত প্রাপ্ত হযরত খিজির আলাইহিস সালাম এর উপস্থিতির প্রমান পাওয়া যায়। মহান আল্লাহর হুকুম তামিল করতে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম সমুদ্রের তলদেশে হযরত খিজির আলাইহিস সালাম এর দেখা পান।
এই গ্রন্থে বেলায়েত সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বেলায়েত রহস্য এবং বেলায়েতের শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নবীগণ তাঁদের যুগে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন, একথা নিঃসন্দেহে সত্য। তারপরেও তাঁদের সময়ে বেলায়েতপ্রাপ্ত ওলীও বিদ্যমান ছিল। যেমন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর যুগে বেলায়েতপ্রাপ্ত ওলীর সত্যতা প্রমান পাওয়া যায়, যা এই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সাবাহায়ে কেরাম গণ ছিলেন বেলায়েতপ্রাপ্ত। যেমন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) এর একটি উক্তিকে দেখতে পাই, তিনি বলেন, "আমি নবীজি হতে দুই প্রকার জ্ঞান শিক্ষা করেছি।
