নূর নবী, মক্কার মোতি, মদীনার জ্যোতি, গুনাহগারদের শাফা'আতকারী, ফখরে মওজুদাত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুপম জীবনাদর্শ, সর্বগুণে গুণান্বিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানবতার মুক্তির দিশারী, শান্তির অগ্রদূত, সাম্য-মৈত্রী-প্রেম প্রতিষ্ঠাতা, জ্ঞানের মশালধারী, এতিমদের আশ্রয়স্থল, আশেকদের নয়নমণি, গায়েবের সংবাদদাতা, আল্লাহর পরিচয়দানকারী ও তাঁর যথাযোগ্য প্রশংসাকারী, আক্বা ও মাওলা হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা আহমদ মুজতবা সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুনাঙ্গার উম্মত হিসেবে আমি এ ধরাধামে জন্ম লাভ করার কারণে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আ'লামীনের দরবারে প্রথমে সীমাহীন ও বেহিসাব কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সাথে সাথে অগণিত দরূদ ও সালাম ওই নবীয়ে রহমতের প্রতি, যাঁর অসংখ্য উপাধির মধ্যে একটি হচ্ছে হাবীবুল্লাহ্।
আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক নবী-রাসূলকে নানা খেতাব দান করেছেন। যেমন, খলীলুল্লাহ, কলীমুল্লাহ, রূহুল্লাহ ইত্যাদি। খলীলুল্লাহ ও হাবীবুল্লাহ শব্দদ্বয়ের অর্থ আল্লাহ্ বন্ধু। কিন্তু ব্যবহারের দিক দিয়ে এগুলোর প্রয়োেগ আকাশ-পাতাল ব্যবধান। 'খলীল' তিনিই হয়ে থাকেন যাঁর কাজকর্ম হয় মুনিবের সন্তুষ্টি মোতাবেক আর 'হাবীব' হলেন তিনি যাঁর সন্তুষ্টি মোতাবেকই মুনিব কার্যাদি সম্পাদন করেন। যেমন, প্রিয় নবীর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদের কেবলা পরিবর্তন করেছেন। 'খলীল' এর কাজ হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী এবং আল্লাহ্র কাজ হয় 'হাবীব'-এর সন্তুষ্টি মোতাবেক। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ্ তা'আলা এরশাদ করেন- “সমস্ত সৃষ্টি আমার সন্তুষ্টি চায়, কিন্তু ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনারই সন্তুষ্টি চাই।" অপর ভাষায়, উভয় জাহান আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়, আর আল্লাহ চান তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামে সন্তুষ্টি। এটাই হলো 'আব্দ' এবং 'আব্দুহু' এর মধ্যকার পার্থক্য। প্রকৃতার্থে প্রিয় নবীর 'আবদুহু' অর্থাৎ আবদিয়াতের মর্যাদা যথাযথভাবে অনুধাবন করা মাখলুকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এক আশেক বলেছেন- মুহাম্মাদ মুস্তাফা জানে খোদা কো,
খোদা জানে মুহাম্মাদ মুস্তাফা কো।
ড. মুহাম্মদ ইকবাল এ প্রসঙ্গে কতই না সুন্দর করে বলেছেন! যার সারসংক্ষেপ হলো- 'আব্দুহু' হচ্ছেন সমস্ত বান্দার মূল বা আসল। আবদুহুর সৌন্দর্যের বর্ণ সমস্ত বান্দার মধ্যে শোভা পায়, অথচ তাঁর নিজস্ব রং প্রত্যক্ষ করা যায় না। ‘আব্দুহু' সমস্ত বান্দার রহস্যস ম্পর্কে অবহিত। সুতরাং 'আব্দুহু' এর মর্যাদা পর্যন্ত অদ্যাবধি কেউ পৌঁছাতে পারেনি।
নবীজি বলেছেন- 'ওই ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমি নবীকে জীবনের চেয়ে বেশী মুহব্বত না করবে।' অপর এক বর্ণনায় আরও বলেন- 'সাবধান! যার নবীপ্রেম নেই, তার ঈমান নেই।' নবীপ্রেমে বিভোর হয়ে মহাকবি আল্লামা ড. মুহাম্মদ ইকবাল বলেছেন-
“এ জগতে চাও যদি গো করতে আপন স্থান তোমার, বাঁধ হৃদয় আল্লাহর সাথে, চল পথে মুস্তাফার।”
ফারসী সাহিত্যের কালজয়ী কবি আল্লামা শেখ সাদীও বলেছেন- "ছেড়ে তুমি পয়গম্বরে যে পথেই যাওনা কেন, কিছুতেই সে লক্ষ্যস্থানে পৌঁছিবে না, ধ্রুব যেনো।” সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব, তারিখ ০১-০৩-০২ইং, শুক্রবার, সাহিত্য কলাম
স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের ভাষায় "দুনিয়ার সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় এবং এ যে সমুদ্র, এর সাথে যদি আরও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয় তবুও আল্লাহ্ বাণী অর্থাৎ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুর সিফাত লিখে শেষ হবে না।” সে কারণেই আমাদের মাযহাবের ইমাম, ইমামকুল শিরোমণি, কাসীদায়ে নু'মানের প্রণেতা
ইমাম আযম আবূ হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু নবীজির শানে যথার্থই
বলেছেন-
মুখের ভাষায় তব গুণগান
করিবে মানব কতটুকু আর! লিখিয়াই বা কী প্রকাশ করিবে লেখকেরা তব মহিমা অপার!
