এই ২টী বইয়ের প্যাকেজে থাকছেঃ
ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীরের বা ঈমান আল সুরেস্বরী(রঃ) এর
বিখ্যাত আলোড়ন সৃষ্টি করা কোরান শরীফ অনুবাদ,
কোরানুল মাজিদ হুবহু অনুবাদ ও কিছু ব্যাখ্যা ।।
ও আরো আছে তার লেখা সর্ব প্রথম বই
মারেফতের গোপন কথা ।।
ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীরের বা ঈমান আল সুরেস্বরী(রঃ) এর
বেস্ট সেলার বই এটি,
মারেফতের গোপন কথা ২২০৳ ।।
কোরানুল মাজিদ(হুবহ অনুবাদ) ৭০০৳ (নির্ধারিত মুল্য)
দুই এক সাথে ৮৮০টাকা মাত্র ।।
ঢাকা ও নারায়ন গঞ্জ ৯৯টাকা অন্যান্য জেলায় ডেলিভারি চার্জ ১৩০টাকা মাত্র ।
ফুল ক্যাশ অন ডেলিভারি তে পাবেন
অর্ডার করার পর আপনাকে লামহা বুকসের হট লাইন
০১৯১১১৮৩০১১ এই নাম্ভার থেকে কল করা হবে ।
আপনি ৯৯৳ টাকা বিকাশ বা নগদ করার অনুরোধ করবে।
টাকা পাঠিয়া অর্ডার কনফার্ম করবেন ।।
ধন্যবাদ
বিঃ দ্রঃ কোরানুল মাজিদ ১৫পারা অনুবাদ এই কিতাবে
কয়েকটি কথা
বুখারি শরিফের একশ বাইশ নম্বর হাদিস :
আন আবি হুরায়রা কালা হাফিসতু মিন রাসুলিল্লাহ ইওয়াইনে ফাজা আহাদুহুমা ফাবাড়ুহু ওয়া আমাল আথারু ফালাও বাস্তুহু কুতিয়া হাজাল মাউম ।
অর্থাৎ হজরত আবু হুরায়রা বলেছেন, আমি রসুলুল্লাহ হইতে ইলনের দুইটি পাত্র মুখস্থ করিয়া রাখিয়াছিলাম, তাহারই একটি পাত্র আমি বিতরণ করিয়া দিয়াছি এবং অপর পাত্রটি প্রকাশ করিলে আমার কাটা যাইবে গলা ।
হজরত আবু হুরায়রার বর্ণিত এই হাদিসে ইহাই স্পষ্ট প্রমাণিত হলো যে এলেম তথা জ্ঞানের প্রকারভেদ আছে। এখানে এলেম তথা জ্ঞানকে হজরত আবু হুরায়রা দুইটি ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম ভাগটি প্রকাশযোগ্য, ভাই এই প্রকাশযোগ্য জ্ঞানটি তিনি প্রকাশ্যে দান করে গেলেন। কিন্তু পরক্ষণে আমরা দেখতে পাই আরেকটি জ্ঞানের কথা, যেটি রহস্যপূর্ণ জ্ঞান তথা গোপনীর জ্ঞান এবং ইহা সবার নিকট পাইকারিভাবে বিতরণ করা যায় না এবং যায় না বলেই তিনি এ-ও বলেছেন যে, এই জ্ঞান সবার নিকট বিতরণ করতে গেলে অপমানিত এবং লাঞ্ছিত হবার প্রচুর সম্ভাবনা আছে। তাই আরবি ভাষায় কাটা যাইবে আমার গলা'—এই বাগধারাটির দ্বারা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই জ্ঞান বিশেষ বিশেষ মানুষদের মাঝে বিতরণ করা যায়। আমরা হজরত আবু হুরায়রা হতে জাহেরি জ্ঞানের অনেক হাদিস পাই এবং তিনি সব চাইতে বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন বলে জানতে পারি। যেখানে জাহেরি এলেমের এতগুলো কথা পাই সেখানে গোপনীয় জ্ঞান তথা গুপ্তজ্ঞানটিও প্রকাশ্য জ্ঞানের চেয়ে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু ইহাতে স্পষ্ট প্রমাণিত হলো যে রহস্যময় গুপ্তজ্ঞানের অস্তিত্বটি আছে এবং ইহাও যে একটি বিশাল আকারের জ্ঞান তাহা প্রমাণিত হলো।
এই রহস্যময় গুপ্তজ্ঞানগুলো হজরত আবু হুন্নায়রা—যিনি আসহাবে সুফ্ফার একজন সম্মানিত সাহাবা, তাঁরই কথা। কিন্তু তিনি সবাইকে সমভাবে সেটা জানিষে দিলেন না। এই রহস্যময় গুপ্তজ্ঞানটি যতই রহস্যে
১৪ ॥ কোরানুল মাজিদ
ঢাকা থাক না কেন, উহা তো মহানবি হজরত আবু হুরায়রাকে দান করেছেন। মহানবি কি কেবল হজরত আবু হুরায়রাকেই দান করেছেন? না, আমরা আরও জানতে পারি যে, এই রহস্যময় গুপ্তজ্ঞানটির বিষয়ে হজরত ইবনে আব্বাস, হজরত হুজায়ফা, হজরত আবু জর গিফারি, হজরত ইয়াসির বেগ আম্মার—এইরকম অনেক বড় বড় সাহাবাদের কাছে মহানবি বলে গেছেন। আরও একটু লক্ষ্য করার বিষয় হলো, এই রহস্যময় গুপ্ত জ্ঞানটি মাথার মগজে বাস করে না, বরং সিনার মধ্যে তথা বুকে ধারণ করতে হয়। সুতরাং, এই রহস্যময় গুপ্তজ্ঞানটি সিনায়-সিনায় অবস্থান করে এবং এই জ্ঞানটি অর্জন করতে হলে বছরের পর বছর নির্জনে ধ্যান-সাধনা করতে হয়। তাই আমরা দেখতে পাই, তওহিদের শিক্ষা অনুযায়ী নিজে করে অপরকে উপদেশ দিতে হয় বলে মহানবি জাবালুন নুর পর্বতের আড়াই হাজার ফুট উঁচুতে হেরা গুহায় সময়ে অসময়ে পনের বছর একমাস উনিশ দিন ধ্যান-সাধনা করে গেছেন। মহানবি আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে, বিরাট ধৈর্য ধারণ করে ধ্যান-সাধনার মাধ্যমে এই জ্ঞান অর্জন করতে হয়। দুনিয়ার জ্ঞানে যারা জ্ঞানী তাদেরও জ্ঞানকে দুটি ভাগে ভাগ করতে দেখি । একটি জ্ঞান হলো অনুসরণ-অনুকরণ করার জ্ঞান এবং অপরটি হলো সৃষ্টি করার জ্ঞান। অনুসরণ-অনুকরণ করার জ্ঞানটি যারা অর্জন করেন তারা দশের ভেতরেই একজন, কিন্তু যারা সৃষ্টি করার জ্ঞান অর্জন করেন তারা মোটেও দশের ভিতরে একজন নন, বরং দশের বাহিরে এগার। সূতরাং, দুনিয়ার জ্ঞানের প্রশ্নে যেখানে এত ব্যাখ্যা আর বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় সেখানে আধ্যাত্মিক রহস্যপূর্ণ গুপ্ত জ্ঞানটি অর্জন করতে হলে বিরাট ধৈর্য এবং ধ্যান-সাধনার প্রয়োজন হয় ৷
এখানে একটি কথা না বললে পাঠক গোলক-ধাঁধায় পড়ে যেতে পারেন, আর সেই কথাটি হলো, মহানবি বলেছেন যে আদম যখন মাটি ও পানিতে ভাসমান তখনও তিনি নবি। সুতরাং, এই হেরাগুহার ধ্যান-সাধনাটি আমরা কেমন করে এই রহস্যময় গুপ্তজ্ঞানটি অর্জন করতে পারি তারই একটি সুন্দর ব্যবস্থাপত্র। এই রহস্যময় জ্ঞান অর্জন করতে গেলে পুথিগত আক্ষরিক জ্ঞানের যে প্রয়োজন পড়ে না তারই জ্বলন্ত উদাহরণ হলো, আমাদের মহানবি একজন নিরক্ষর নবি ছিলেন। পাঠকদেরকে একটু খেয়াল করতে বলছি যে, এই হেরাগুহাতেই মহানবি নবুয়ত পেলেন, এই হেৱা গুহাতেই তিনি কোরান পেলেন এবং জিবরিল আমিনের সাক্ষাৎ লাভ করলেন। পাঠক, একটু খেয়াল করুন, তিনটির একটিও কিন্তু বাকিতে পাওয়া যাবে বলা হয়নি। আমরা দেখতে পাই, তিনটিই মহানবি নগদ পেরেছেন ! সুতরাং, রহস্যজগতের গুপ্তজ্ঞানে যারা ডুব দিতে চান তাদেরকে
কয়েকটি কথা ॥ ১৫
জানিয়ে রাখা ভালো যে ধ্যান-সাধনার মাধ্যম ছাড়া এই রহস্যময় জ্ঞানটি অর্জন করা যায় না, তবে মাদারজাত ওলি হলে ভিন্ন কথা। পাঠক, আরেকটু খেয়াল করুন, জিবরিল আমিন কিন্তু মহানবির মাথার সঙ্গে মাথা মিলিয়ে জ্ঞান দান করেন নি, বরং সিনার সঙ্গে সিনা মিলিয়ে সিনার জ্ঞানটি দান করে গেলেন এবং এই সিনার জ্ঞানকেই আমরা রহস্যময় গুপ্তজ্ঞান বললাম ।
যারা এই রহস্যময় গুপ্তজ্ঞানটিকে অস্বীকার করেন তাদেরকেও দোষ দেওয়া যায় না; কারণ জন্মের পূর্বেই আল্লাহ্ পাক তকদিরে লিখে দিয়েছেন যে, এদের কপালে রহস্যের জ্ঞান নাই। যেমন কোরান প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে যে মহানবি আপন প্রবৃত্তি হতে একটি কথাও বলেন নি তথা আল্লাহ্ যা বলার উপযুক্ত উহাই মহানবির মাধ্যমে বলে দিয়েছেন। সুতরাং মহানবির আগের গুমাহ এবং পেছনের গুনাহ সবগুলো মাফ করে দেওয়া হয়েছে এই কথাটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা, একটা উলঙ্গ আবর্জনার বিরক্তিকর বোঝা, একটা সাংঘর্ষিক বিষয়ে পরিণত হয়ে যায়। কারণ মহানবি যেখানে একটি কথাও আপন প্রবৃত্তি হতে বলেন নাই সেইখানে শুনাহ করার প্রশ্নটি অবাস্তর, অবাস্তব এবং মিথ্যার ঝুড়ি। অথচ এই মিথার ঝুড়ি অনেকেই মনের অজান্তে ভুল করে বহন করে চলছি। এর চেয়ে নিকৃষ্ট ভাষ্য আর কী হতে পারে?
এই জঘন্য অপবাদটি মুসলমানদের তেহাত্তর ফেরকার মধ্যে একমাত্র ওহাবি ফেরকার অনুসারীরা দিয়ে থাকে এবং ওহাবি ফেরকাকে যারা সজ্ঞানে এবং অজ্ঞানে অনুসরণ করে তারাও নবি গুনাহ করেছেন কথাটি মেনে নেয়। মুসলিম সমাজে নবির গুনাহ করার অপবাদটি কেমন করে হজম করে তাহা ভাবতেও অবাক লাগে। কোরান-এ যে সকল কথা নবির অনুসারীদেরকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে উহাই নবির উপরে চাপিয়ে দেওয়া
হয় ।
সর্বজনীন এবং ব্যতিক্রম এক বিষয় নয়। সাধারণ বিষয়গুলো সর্বসাধারণকে বলা যায় এবং সর্বসাধারণকে বুঝিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু ব্যতিক্রম বিষয়টি যাহা অতীব রহস্যময় বিষয় এবং সূক্ষ্মদর্শন গু সর্বসাধারণকে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই অতীব রহস্যময় মা সর্বসাধারণের মধ্যে বণ্টন করতে গেলে হিতে বিপরীত ফলই আসার প্রচুর সম্ভাবনা থেকে যায়। ইহা কেবল ধর্ম বিষয়ে প্রযোজ্য নয়, বরং বিজ্ঞান ও জন্যান্য বিষয়েও সমভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং জ্ঞান কটনের প্রশ্নে সবাইকে এক করে ফেলা ঠিক হয় না। যেখানে কোরানুল হাকিম ঘোষণা করছে আমাদের মহানবি জীবনে একটি কথাও আপন প্রবৃত্তি হতে যঙ্গের স্থ অর্থাৎ আপন খেয়াল, কল্পনা, হুঁশ, চেতনা, জ্ঞান, মরজি, খুশি
