আল্লাহ তায়ালার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগত সমূহের মালিক। হাজারও দরূদ ও সালাম জানাই নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে, যিনি খাতামুন নাবীয়্যিন, সায়্যেদুল মুরসালীন, অসংখ্য ও অগণিত মু'জিযার অধিকারী, যাকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে নূর ও জগতসমূহের রহমত বলে ঘোষণা করেছেন।
হযরত আলী (আ.) জন্ম নিয়েছিলেন পবিত্র কাবা ঘরে হিজরতের তেইশ বছর আগে ১৩ই রজব এবং শাহাদত বরণ করেছিলেন কুফার পবিত্র মসজিদে হিজরি ৪০ সনের ২১শে রমজানে। জন্মগ্রহণের পর সর্বপ্রথম যাকে তিনি চক্ষু মেলে দেখেছিলেন তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। প্রথমত তাঁর নামকরণ করা হয়েছিলো 'আসাদ' এবং 'জায়েদ'। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় ফিরে আসার পর তাঁর নাম রাখেন আলী। তাঁর আরেক নাম হল আবু তুরাব যার অর্থ হল “মাটির আব্বা”। একদিন নবীজী মসজিদে প্রবেশের পূর্বে দেখেন হযরত আলী এমন এক জায়গায় শুয়ে আছেন যা ধুলোবালিতে পূর্ণ। তখন তিনি ডাক দেন, “হে আবু তুরাব (মাটির পিতা) উঠো"। তাছাড়া বড় ছেলে হাসানের নামে তাঁকে ডাকা হত 'আবুল-হাসান।' এসব ব্যতীত হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে 'আসাদুল্লাহ্' উপাধি দান করেন যার অর্থ হল আল্লাহ্ সিংহ।
হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় কন্যা ফাতেমা (রা.) এর সাথে আলী (রা.) এর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় হযরত ফাতেমা (রা.) এর বয়স ছিল ১৪ বছর এবং হযরত আলী (রা.) এর বয়স ছিল ২২ বছর (তাবাকাতে ইবনে সা'দ, ইসাবা)। তিনি বদর, উহুদ ও খন্দক এর যুদ্ধে যোগদান এবং তাবুক ছাড়া অন্য সমস্ত অভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে গমন করেন। তাবুক অভিযানের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুপস্থিতিতে তাঁর পরিবারবর্গের তত্ত্ববাবধান এবং মদীনার শাসনভার তাঁর উপর ন্যস্ত ছিল। উহুদের যুদ্ধে তিনি ষোলটি আঘাতপ্রাপ্ত হন; তাঁর প্রচন্ড আক্রমণে খায়বারের দুর্জয় কা'মূস দূর্গের পতন ঘটে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নবম সূরা (আল বারা'আ বা আত-তাওবা) অবতীর্ণ হওয়ার অল্প পরে উহার প্রথম তেরটি আয়াত হজ্জের সময় মিনা প্রান্তরে সর্বসমক্ষে ঘোষণা করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রেরণ করেন। দশম হিজরীতে আলী (আ.) ইয়ামানে সফরে যান। এরই ফলে হামাদানীরা ইসলাম গ্রহণ করে।
আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ.)' এর মহৎ ও সুন্দর ব্যক্তিত্ব এত বিশাল বিস্তৃত ও এত বিচিত্রময় যে একজন মানুষের পক্ষে তাঁর সব বৈশিষ্ট্য ও পরিধি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করাও সম্ভব নয়। মানুষ কল্পনার ফানুস উড়াতে পারবে কিন্তু এর কিনারার নাগালও পাবে না।
ভারত উপমহাদেশের বিশিষ্ট সূফী সাধক ও চিশতিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা খাজা মুঈনউদ্দিন চিশতি (রহ.) বলেছেন, সমুদ্রকে যেমন ঘটিতে ধারণ করা অসম্ভব তেমনি বর্ণনার মাধ্যমে আলী (আ.) এর গুণাবলী তুলে ধরাও অসম্ভব। হযরত আলী (আ.) কে পুরোপুরি বা পরিপূর্ণভাবে চিনেন কেবল
আল্লাহ ও তাঁর সর্বশেষ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আল্লাহ ও
তাঁর সর্বশেষ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালভাবে চিনেন কেবল
আলী (আ.)।
হযরত আব্দুর রহমান জামী (রহ.) বলেন, হযরত মাওলা আলী (আ.) এর ফজিলত ও প্রশংসনীয় গুণাবলী এত বেশী যে, কলম দিয়ে ও মুখে বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেন, আমরা সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে হযরত আলীর চেয়ে বেশী কারও ফজিলত ও গুণাবলী খুঁজে পাইনি। (শাওয়াহেদুন নবুয়ত)
একদা হযরত ইমাম হাসান (রা.) বক্তৃতা প্রসঙ্গে বললেন- যখনই হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার আব্বাজানকে যুদ্ধে প্রেরণ করতেন, তখনই তাঁর ডান পার্শ্বে জিবরাইল আলাইহিস সালাম ও বাম পার্শ্বে মিকাইল আলাইহিস সালাম অবস্থান করতেন; এই জন্য আমার আব্বজান জীবনে কোনদিনই কোন যুদ্ধে পরাজিত হন নাই (মুজিজায়ে আম্বিয়া ও কারামতে আউলিয়া)।