দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশকের কথাসকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তা'আলার, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টির সেরা মানুষ ও শ্রেষ্ঠ উম্মত এবং মুসলমান বানিয়েছেন। অসংখ্য দরূদ ও সালাম আখেরী নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন রূপে মনোনীত করলাম।” (সূরা মায়িদা : আয়াত ৩)রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদের মাঝে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি, আল্লাহর কুরআন এবং তাঁর রাসুলের সুন্নত ৷ যতদিন পর্যন্ত এদুটো জিনিস জাঁকড়ে ধরবে ততদিন পর্যন্ত তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। (হাদীস)বর্তমান সমাজে 'আহলে হাদীস' নামক সম্প্রদায় একটি বড় ফেতনা। ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমানদের সামনে মাযহাবের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সঠিক রাস্তা থেকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। মাযহাব অর্থ চলার পথ। সঠিকভাবে কুরআন- সুন্নাহ মুতাবিক জীবন যাপনের পথ। যারা কুরআন-হাদীসের গভীর জ্ঞান রাখে না তাদের জন্য নিজের স্বল্প জ্ঞান দ্বারা কুরআন-হাদীস নিয়ে গবেষণার চেষ্টা না করে, যারা গভীর জ্ঞান রাখেন তাঁদের জ্ঞানের আলোকে বুঝে নেওয়াই সহজ ও সঠিক পন্থা। সাহাবীদের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত উম্মতে মুসলিমা এ সঠিক পথেরই অনুসরণ করে আসছে।ইংরেজ আমলে সৃষ্ট বর্তমানের মাযহাববিরোধী সম্প্রদায় এই নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতায় আঘাত হেনেছে। মাযহাবের অনুসরণকে শিরক আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। অথচ লা-মাযহাবীরা মুখে স্বীকার না করলেও বাস্তবে তারা আমাদের চেনে অনেক বেশী তাকলীদ করে।বোঝার জন্য ছোট একটি ঘটনা উপস্থাপন করছি। আমি একটি মসজিদে জুমার নামাযের দায়িত্ব পালন করি। সেখানে একজন বড় শিক্ষিত মানুষ নামাদের আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন, ইমামের পিছনে কেরাত পড়তে হয় এইটি সব মু ানে না, আপনি যদি সকলকে বলে দেন তাহলে সকলেই
১৩ : ইনার পেজ, পেস্টিংয়ের সময় সিরিয়াস ঠিক রেখে এ অংশটুকু কেটে ফেলতে হবেউপকৃত হবে। তখন আমি বললাম : হানাফী মাযহাবে ইমামের পিছনে পড়া জায়েষ নেই। তখন তিনি চট করে বলে ফেললেন:খতীব সাহেব! আমরা মাযহাব মানব কেন? আমরা শুধু কুরআন এবং হাদীস হল্যে । তখন আমি উত্তর দিলাম: কুরআনের ভাষা আরবী, হাদীসের ভাষাও আরবী, আপনি একজন জেনারেল শিক্ষিত মানুষ, ইমামের পিছনে কিরাত পড়তে হবে এই কথাটা আপনি কিভাবে বুঝলেন? আপনি নিজে নিজে বুঝেছেন, না আমার মত একজন আলেম আপনাকে বুঝিয়েছেন। ভদ্রলোক জবাব দিলেন, হুজুর! আমরা সাধারণ মানুষ আমরা কিভাবে বুঝব। বোঝার যোগ্যতা তো আমাদের নেই। আপনার মত একজন আলেম আমাকে বুঝিয়েছেন। ভাই আমি বুঝতে পেরেছি। তখন আমি বললাম: এটাই তো মাযহাব মানা হলো। আপনি বর্তমান সাধারণ একজন ভালেমের অনুসরণ করে মাযহাব মেনেছেন। আর আমরা ইমামে আযম আবু হানীফা রহ., যিনি ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠতম মুহাদিস ও ফকীহ। আল্লাহ প্রদত্ত গভীর জ্ঞানের আলোকে কুরআন ও হাদীস থেকে নিত্য-নতুন সমস্যা সমাধান উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে তাঁর কোন জুড়ি ছিল না। আমরা উরেই অনুসারী। ভিনি আমাদের শিক্ষক। আমাদের যাকে জার শাবন্যদের মাঝে পার্থক্য হল, আমরা মাযহাব মানি এবং মুখে স্বীকার করি ৷ আপনারা মুখে স্বীকার করেন না, কিন্তু প্রকারান্তরে মাযহাব ঠিকই মানেন। এই কথা বলার পরে তিনি মাথা নিচু করে বসে রইলেন। তাঁর কোন জবাব ছিল না ।মা-বাবহারী কেনা থেকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে সহীহ রাস্তা দেখানোর জন্য জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা -এর ২০০৫ ইং সালের দাওয়াতে হাদীসের কারো ছাত্রগণ “ মাযহাববিরোধীদের স্বরূপ সন্ধানে" শীর্ষক বইটি প্রকাশ করেছিলেন। যা একটি ভাল উদ্যোগ ছিল। বইটি আলেম সমাজে অন্দর সাড়া জাগিয়েছে। প্রথম প্রকাশের পর খুব দ্রুতই এর সবগুলো কপি শেষ হাতে যায় । তাই জামিয়ার আসাতিযায়ে কেরামের মিটিংয়ে ‘মাকতাবাতুস সা থেকে বইটি অপানোর জন্য আবেদন করা হয়। সকল আসাতিষায়ে কেরামেরবাস সফাকে দ্বিতীয় এডিশন ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া এডিশনে তথ্যগত কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে পুনরায় নির্ভুল তথ্য ওবইটি সম্পাদনার জন্য স্বনামধন্য লেখক ও গবেষক, সু- সাহিত্যিক জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের সিনিয়র মুহাদ্দিস হযরত মাওলানাসারে দা. বা. কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি অনেক দিনএই অসুস্থ। তারপরে তিনি অনেক কষ্ট করে এই অসুস্থতা নিয়েই অনেক অথ্য ও শ্রম ব্যয় করে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে সঠিক তথ্য ও নির্ভুল দলিলসহ