ফারসী ভাষায় যে কয়জন প্রতিভাবান কবি সাহিত্যিক জন্মগ্রহন করেছেন, তাঁদের মধ্যে মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী (রঃ আঃ) অন্যতম। যার নামটি সারা পৃথিবীতে সুদীর্ঘ আটশত বৎসর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের নিকট সার্বজনীন ভাবে গৃহীত হয়েছে। এই সার্বজনীন ব্যক্তিত্বটির লেখা গুলোকেও যারা নিজেদের মনগড়া অনুবাদে পাঠকদেরকে বিভ্রান্ত করেছেন, ইতিহাসের কাঠগড়ায় হয়ত তাদেরকে একদিন না একদিন দাঁড়াতে হবে। যারা অনুবাদে মূল কালাম গুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে মাঝখান থেকে কেটে ফেলে দিয়েছেন। তাদেরকে অনুবাদক না বলে কসাই বলাটাই সমীচীন মনে করি। তিনি তাঁর লেখার মাঝে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে মূলত সুফিবাদকেই তুলে ধরেছেন। এবং সাধকদের যে অবস্থানটি সেই অবস্থানটিকে গল্পচ্ছলে উপস্থাপন করেছেন। উমাইয়া-আব্বাসীয় রাজবংশ যখন রক্তের হোলি খেলায় মত্ত তখন ফারসী এবং আরবী কাব্যধারায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে এক নতুন ধারার আবির্ভাব ঘটান। যা তাঁর লেখার প্রতিটি ছত্রে ছত্রে উপলব্ধি করা যায়। যারা ইসলামের নামে তরবারীবাজীকেই একমাত্র পথ বলে মনে করেন, তাদের সামনে মাওলানা রুমীর কলমই হয়ে উঠে বিরাট তরবারী। বিংশ শতাব্দীতে এসেও যখন মারনাস্ত্রের ঝনঝনানী কোন অংশেই কমেনি, আজও আফগানিস্তানে, ইরাকে, লিবিয়াসহ বিশ্বের বহু দেশের উপর চলছে আধুনিক কালের উমাইয়া আব্বাসীয় প্রেতাত্মাদের ধ্বংসলীলা এবং মানুষ মারার বুহু উৎসব। তখনও সেই সাম্রাজ্যবাদীদের দেশেই জয় করে নিলো প্রথিতযশা কবির লেখা মসনবী। ঘটিয়ে চলছেন এক নীরব বিপ্লব। সেই প্রথিতযসা কবির কবিতার শাব্দিক অনুবাদ করার দুঃসাহসটি যিনি যুগিয়ে যাচ্ছেন তিনিও বিশ্ব পরিক্রমায় আরেক কলম সম্রাট, বিশ্ব মানুষের আধ্যাত্মবাদের ত্রাণকর্তা, মানবতার অতন্দ্র প্রহরী, সর্ব কালের মহা সাধকদের উত্তরণের ত্রাণকর্তা, মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ের অধিপতি, কোরানের এবং সর্বকালের ধর্মগ্রন্থ গুলোর সঠিক ব্যাখ্যাকারী, সার্বজনীনতার অধিশ্বর চেরাগে জান শরীফ ডাঃ বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান ইবনে হেলাল আল সুরেশ্বরী। তাঁর অপার কৃপাই আমার পথ চলার একমাত্র আলো। যাহা দিয়ে এই দুঃসাহসিক কর্মটি করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এবং শব্দে শব্দে নিরপেক্ষ অনুবাদ কর্মটি করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভুল হতে পারে, আমরা সে কথাটি অকপটে স্বীকার করি। কিন্তু, ইচ্ছাকৃত যে ভুল গুলো করা হয়, ধর্মের নামে সাইনবোর্ড কাঁধে রেখে, এই আধুনিক বিশ্বে যারা ফতোয়া দিয়ে বেড়ায় যে, ধর্ম ত্যাগ করলে তাকে হত্যা করা বৈধ। আর এই উক্তিটি যখন টেলিভিশনের পর্দায় একজন আলোচিত এবং সে সাথে সমালোচিত ব্যক্তিত্ত্বের মুখ থেকে শুনতে পাই তখন হতবাক হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। এই সমস্ত ব্যক্তিরা আধুনিক কালে উমাইয়া আব্বাসীয়দের প্রেতাত্মা রূপে ইসলামের নব্য শত্রু রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি বা তারা ভাল ভাবে জানেন সুরা কাফেরূন এর আয়াতটিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কি ঘোষনা করেছেন। যেখানে আল্লাহই তাঁর হাবিবকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাণীটি। ১০৯নং সুরার ৬নং আয়াতে বলা হয়েছে "লাকুম দীনুকুম ওলইয়াদীন" অর্থ্যাৎঃ তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম (দ্বীন) এবং আমার জন্য আমার ধর্ম (দ্বীন)। ধর্মের নামে গোঁড়ামি আর ধর্মান্ধতা কখনও ইসলাম হতে পারে না।
