ভূমিকা
আল্লাহর নামে শুরু, যিনি সর্বময় ব্যাপ্ত। অসংখ্য দরুদ ও সালাম জগতগুরু মুহাম্মদ ও উনার বংশধরগণের প্রতি।
মৃত্যুর পর মানুষের কী ঘটে, এ নিয়ে মানুষের অপার কৌতূহল। মৃত মানুষ কখনো জীবিত হয়ে ফিরে এসে বলে যায়নি আসলে মৃত্যুর পর কী ঘটে, তাই মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা কিছুই বলা হয়েছে, সবই অনুমান নির্ভর।
যারা ধর্ম অবিশ্বাসী তথা নাস্তিক, তারা মনে করেন— মৃত্যুর পর কিছুই ঘটে না। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শরীর শেষ হয়ে যায়, প্রাণশক্তিও শেষ হয়ে যায়। আত্মা বলে কিছুই নেই।
আব্রাহামিক ধর্মসমূহ তথা ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মে সাধারণভাবে প্রচলিত যে মানুষের জন্ম ও মৃত্যু একবার করেই। মৃত্যুর পর আত্মা কিছু সময় ইল্লিন অথবা সিজ্জিনে অবস্থান করে। তারপর আত্মাকে কবরস্থ লাশের ভেতর ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে তিনটি প্রশ্ন করা হয়। তিনটি প্রশ্নের উত্তর সার্বিকভাবে দিতে পারলে তার কবরটিকে জান্নাত বানিয়ে দেয়া হয়। আর যদি সঠিক উত্তর দিতে না পারে তাহলে তার কবরকে জাহান্নামময় বানিয়ে দেয়া হয়। কবরবাসীগণ এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত কবরে থাকবে। তারপর কিয়ামত হবে। হাশরের মাঠে বিচার হবে। বিচারে মিজানের পাল্লায় পাপ ও পুণ্য ওজন করা হবে।
পুনর্জনা কেন সত্য!
যার পাপের পরিমাণ বেশি হবে, সে জাহান্নামী বা নরকবাসী হবে। আর যার পুণ্য বা নেক বেশি হবে, সে জান্নাতী বা স্বর্গবাসী হবে। ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মগুলোর আবির্ভাব হয়েছে, যেমন 'সনাতন', 'বৌদ্ধ', 'জৈন', 'শিখ', ইত্যাদি এই ধর্মগুলোর দর্শন হলো জান্নাত-জাহান্নাম বা স্বর্গ-নরক এখানেই চলমান। তুমি যদি কোনো পাপ কাজ কর, তাহলে তার শাস্তি স্বরূপ তুমি শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি যে যন্ত্রণা ভোগ কর, এটাই হলো নরক বা জাহান্নাম। আর যদি নেক বা পুণ্য কর, তাহলে তোমার ভেতর, বাহির ও পারিপার্শ্বিকতায় যে অপার আনন্দ লাভ কর, সেটাই হলো স্বর্গ বা জান্নাত ।
পুনর্জন্ম হলো— বারবার জন্ম নেওয়া, প্রতিবার মৃত্যুর পর আত্মাকে নতুন আরেকটি মাতৃগর্ভে নতুন একটি দেহে স্থানান্তর করা হয়ে থাকে আত্মার পাপ/পুণ্যের যোগ্যতানুযায়ী, এটাকে জন্মচক্র বা
জন্মান্তরবাদ বলা হয়।
যদি তুমি এই জীবনে সকল আশা, বাসনা শূন্য করে মনকে খালি করে ফেলতে পার, তাহলে তুমি নির্বাণ বা মোক্ষ লাভ করলে। ফলে তোমাকে আর জন্ম নিতে হবে না বা তোমার পুনর্জন্ম হবে না। আর যদি তোমার মনে কোনো আশা বা বাসনা অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তোমাকে আবার জন্ম নিতে হবে বা তোমার পুনর্জন্ম হবে। পাপ/নেক অনুযায়ী সুখ/দুঃখের জীবন লাভ হবে তথা জান্নাত/জাহান্নামের জীবন। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীগণ পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন না। তবে কিছু কিছু মুসলিম সুফিগণ পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন। এতে কখনো কখনো তাদেরকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যে, পুনর্জন্ম তো হিন্দুদের বিশ্বাস, তো আপনি সেই আকিদা পোষণ করেন কীভাবে?
দেখুন হিন্দুরা তো এক আল্লাহ বা এক ঈশ্বরেও বিশ্বাস করেন। যেমন উপনিষদে আছে— “এক্কাম এবাদাতিয়াম”, অর্থাৎ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। আবার ঋগবেদে আছে — ‘সত্য একটাই'। ঈশ্বর একজনই। জ্ঞানীরা এক ঈশ্বরকে ডেকে থাকেন অনেক নামে।
হবে।
T
পুনর্জন্ম কেন সত্য।
হিন্দু ধর্মের বয়স পাঁচ হাজার বছর। ইসলাম ধর্মের বয়স দেড় হাজার বছর। অর্থাৎ এক ঈশ্বর বা এক আল্লাহর ধারণা মুসলমানদের থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগে থেকেই সনাতন বা হিন্দু ধর্মের লোকেরা পোষণ করছেন। এখন যদি প্রশ্ন করা হয়— একত্ববাদের আকিদা তো হিন্দুদের আকিদা, আপনি এই আকিদা বা বিশ্বাস পোষণ করছেন কেন? তখন কী উত্তর দেবেন? সত্য তো সত্যই। হিন্দু সত্য বা মুসলিম সত্য বলে কিছুই নেই। যেমন হিন্দু গণিত বা মুসলিম গণিত বলে কিছুই নেই।
আবার অনেকের ধারণা— আখিরাত বা পরকালে বিশ্বাস করা তো ঈমানের একটি অংশ। সুতরাং যদি পুনর্জন্ম বিশ্বাস করা হয়, তাহলে তো আখিরাত বা পরকালকে অস্বীকার করা হয়।
দেখুন আখিরাত বা পরকাল অস্বীকার করা কাকে বলে, সেটা আপনাকে জানতে হবে। মূলত নাস্তিকরা আখিরাত বা পরকাল অস্বীকার করে। তাদের ধারণা— পাপ-পুণ্য বলতে কিছুই নেই। মৃত্যুর পর তুমি প্রকৃতিতে মিশে যাবে। সুতরাং জান্নাত জাহান্নাম বা স্বর্গ-নরকও নেই। সুতরাং যা ইচ্ছা করো, জীবন হলো ভোগের জন্য, কাজেই যত পার ভোগ করো। এমন ধারণা পোষণকারীগণ হলেন আখিরাত বা পরকাল অস্বীকারকারী।
আর যারা এই ধারণা রাখে যে—প্রতিটি কর্মের ফলাফল ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ পাপের জন্য দোযখ বা জাহান্নাম, আর পুণ্যের জন্য বেহেশত বা জান্নাত, তারা যেমন পরকালে বিশ্বাসী, তেমনি যারা পুনর্জন্ম বা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী তারাও পরকালে বিশ্বাসী। পরকাল মানে পরের কাল। অর্থাৎ পরবর্তী জনম বা এই জন্মের পরের জন্ম। অর্থাৎ যদি এই জন্মে পাপ কাজ করি, তাহলে পরের জন্মে সাজা পেতে হবে। এটাই দোযখ বা জাহান্নাম। আর এই জন্মে যদি সৎকাজ বা ভালো কাজ করি, তাহলে পরের জন্মে আনন্দ, কল্যাণ বা উন্নত জীবন লাভ হবে, এটাই জান্নাত ।
যে সব ধর্মগুলো পুনর্জন্ম বিশ্বাস করে না তারাও বলছে সৎকাজ করো, অসৎকাজ করো না। আর যে সব ধর্মসমূহ পুনর্জনা বিশ্বাস
