আল্লাহ তায়ালার জন্য সমস্ত প্রশংসা যিনি জগত সমূহের মালিক। সমস্ত প্রশংসা জগত সমূহের মালিক মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তায়ালার জন্য। হাজারও দরূদ ও সালাম জানাই নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে, যিনি খাতামুন নাবীয়ি্যন, সায়্যেদুল মুরসালীন, অসংখ্য ও অগণিত মু'জিযার অধিকারী, যাকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে নূর ও জগতসমূহের রহমত বলে ঘোষনা করেছেন। কুরআনে যার আনুগত্য ও মুহাব্বত করার জন্য বারবার তাগিদ করা হয়েছে। যাকে অনুসরণ করার হুকুম মহান আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সিরাতাল মুস্তাকিম তথা ইসলামী তাবলীগের প্রবক্তা। অথচ আজ আমরা সেই সিরাতাল মুস্তাকিম বাদ দিয়ে বিভিন্ন পথে ধাবিত হয়েছি এবং সত্য হতে অনেক দূরে সরে গিয়েছি।
সরলপ্রাণ মানুষ যখন কোন বাতিল ও মিথ্যার বাহ্যিক চাকচিক্যপূর্ণ আয়োজনের গোলকধাঁধার আবর্তে সঠিক দিশা খুঁজে বের করতে হিমশিম খায়, তখন সচেতন সত্যপন্থীদের উপর অপরিহার্য হয়ে যায় বাতিলের পরিচয় তুলে ধরে সরলপথের দিকে মানুষকে ধাবিত করা। অন্যথায় একদিকে হাদিস শরীফের নূরানী ভাষায় সত্য বলার ক্ষেত্রে নীরবতা অবলম্বনকারী বোবা শয়তান এর অশুভ পরিণতির উপযোগী হতে হয়, অন্যদিকে যাদের উদ্দেশ্যে ঐ সত্যপথ দেখানো হয় তাদেরও ঈমানী দায়িত্ব হয়ে যায় নিজেদের আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে ঐ সত্য পথের আহবানে সাড়া দেওয়া।
কারো নিছক বাহ্যিক অবস্থা দেখে ভুলে না গিয়ে তার মূল ও প্রকৃত অবস্থার খোজ-খবর নিয়ে পা বাড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যথায়, মহাক্ষতির সম্মুখীন হওয়া অনিবার্য। তাবলীগ জামাত ও তাদের ইজতিমার বাহ্যিকরূপ যা-ই হোক না কেন তাদের মূল হচ্ছে ওহাবী খারেজীর মতবাদ অনুসরণ। তাদের আসার উদ্দেশ্যেই হচ্ছে এ দেশে ওহাবী মতবাদ প্রচার করা। এ মতবাদ সুন্নী মতাদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই তাদের ইজতিমা ও মুনাজাতেরও কোন গুরুত্ব নেই। ইসলামে তাবলীগ বা অমুসলমানদের নিকট ধর্মপ্রচার এবং তালীম বা দ্বীনের বিষয়াদির শিক্ষাদানের গুরুত্ব আছে। সুতরাং এ তাবলীগ ও তা'লীমের প্রসার উভয় জগতের কল্যাণ বয়ে আনবে যদি ইসলামের সঠিক রূপরেখার (সুন্নী মতাদর্শের) প্রচারণা ও শিক্ষা দেওয়া হয়।
তদুপরি একটি সুন্নী মতাদর্শ বিরোধী সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ডকে ক্রমশঃ দেশের জাতীয় কর্মসূচীতে পরিণত করার মত বদান্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করার ফলে দেশের বৃহত্তম সুন্নী জনগোষ্ঠীর বিগভাজন হচ্ছে কিনা তাও আমাদের ভেবে দেখা দরকার। কারণ এ তাবলীগী ওহাবীদের উত্থানকে দেশের সুন্নী মুসলমানগণ এক অশুভ সঙ্কেত বলে মনে করেন। এ সঙ্কেত কখনো বাস্তবরূপ ধারণ করলে তা কারো জন্য মঙ্গলময় হবে না বলা যায় বিভিন্ন যুক্তির ভিত্তিতে। ঐ টঙ্গীতে ইজতিমাস্থলকে সব মুসলমানের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য কোন কোন মহল দাবী তুলেছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, এভাবে তারা নিজেদের পকৃত পরিচয় গোপন করতে গিয়ে একতরফাভাবে এমনি প্রচারণা চালিয়ে এসেছে যে, এখন তাদের আসল পরিচয় তুলে ধরলে অনেকের নিকট অবিশ্বাস্য মনে হবে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে যে এমন জামাত ও জামাতের মুরব্বীদের এ ধরনের জঘন্য আক্বীদা থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী ইলয়াসের মালফুজাতের মধ্যে ঈমানের বিপরীত আকিদা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ইলিয়াছ মেওয়াতির প্রিয়ভাজন মৌলভী আশরাফ আলী থানভী সাহেবের কথা ধরুন। ওহাবীরা প্রচার করেছে তিনি বড় বুযুর্গ ব্যাক্তি ছিলেন। কিন্তু যখনই বলা হবে যে তিনি তার লিখিত হিফযুল ঈমান এ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা এর জ্ঞানকে জানোয়ার, পাগল ও শিশুদের জ্ঞানের সাথে তুলনা করে কুফরী করেছেন। এজন্য তাকে আলা হযরত ইমাম শাহ আহমদ রেযা খান বেরেলভী (রহ.) এবং হেরমাঈন শরীফাঈনের ৩৩ জন আলেম তার এবং আরো কয়েকজন দেওবন্দী আলেমের কুফর প্রমাণিত করে ফতোয়া জারী করা সত্ত্বেও তিনি তার কুফরী বাক্যকে প্রত্যাহার করে ঈমানের পথ অবলম্বন করেননি। বরং তার ইন্তেকালের পর দেওবন্দী ওহাবীরাও তার ভুল স্বীকার করেননি। তখন হয়তো অনেকে আতকে ওঠবেন আর দেওবন্দী ভাবধারার ওহাবী তাবলীগীরা!
