অনুবাদকের কথা
যিনি সমগ্র সৃষ্টি জগতের মধ্যে সর্বোত্তম সৃষ্টি, যিনি মহত্তম আদর্শের অধিকারী, যিনি সমগ্র মানব জাতির জন্য শ্রেষ্ঠতম পথিকৃৎ, যিনি স্রষ্টা ও পালনকর্তা আল্লাহ্ পাকের প্রিয়তম রসূল, পেয়ারা হাবীব, বিশ্ব-সভ্যতায় যাঁর অবদান সর্বাধিক, যিনি সমগ্র বিশ্ব মানবের কল্যাণের জন্য প্রেরিত।
যাঁর আগমনের অপেক্ষা করেছেন লক্ষাধিক আম্বিয়ায়ে কেরাম যুগ যুগ ধরে । যিনি সাইয়্যেদুল মুরসালীন, খাতেমুন নবীয়্যিন। যাঁর দীদার লাভ না হলে ব্যাকুল হতেন ফেরেশতাগণের দলপতি হযরত জিব্রাঈল (আ.)। যাঁর দরবারে জিব্রাঈল (আ.)-কে ২৩ বছরে ২৪ হাজার বার হাযির হতে হয়েছে, যিনি আল্লাহ্ পাকের দীদার লাভ করেছেন শবে মেরাজে ।
যিনি সর্বপ্রথম মহাশূণ্য পরিভ্রমণ করেছেন, সারা বিশ্বে আজ দেড় শত কোটি মানুষ বাঁর অনুসারী। বার আদর্শ মহান, অতুলনীয়, অদ্বিতীয়, চিরস্মরণীয়, চির অনুকরণীয়, চির সংরক্ষিত, চির-প্রশংসিত, তিনিই তো সেই অনন্য-সাধারণ ফুলঃ "যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা” ।
যাঁর সম্পর্কে বিখ্যাত সাহাবী হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন : আমি কোনো কস্তুরী, কোন আম্বর এবং কোনো সুগন্ধিদায়ক বস্তু হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওরাসাল্লামের চেয়ে অধিকতর খুশবুদার পাইনি। যদি কারো সঙ্গে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মোসাফাহা (করমর্দন) করতেন তবে সমস্ত দিন ঐ ব্যক্তির হাতে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মোসাফাহার সুগন্ধি লেগেই থাকতো। আর যদি কখনও কোনো শিশুর মাথায় তিনি হাত বুলিয়ে দিতেন তবে সুগন্ধির কারণে ঐ শিশু হাজারো শিশুর মাঝে অত্যন্ত সহজে পরিচিত হতো। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম একবার হযরত আনাসের (রা.) গৃহে বিশ্রাম করছিলেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক ঘর্মাক্ত হয়ে উঠল। হযরত আনাসের (রা.) মাতা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারকের ঘাম একটি শিশিতে পুরে নিচ্ছিলেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন : তুমি কি করছো? তিনি জবাব দিলেন ঃ হুজুর! আমরা এগুলোকে আমাদের সুগন্ধির সঙ্গে মিশ্রিত করবো। কেননা, আপনার এই ঘাম সর্বোত্তম সুগন্ধি ।
ইমাম বোখারী (র.) হযরত যাবের (রা.)-এর সূত্রে 'তারীখে কবীর' গ্রন্থে উল্লেখ করেন- হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম যদি কোনো দলের সঙ্গে কোথাও গমন করতেন, যদি কেউ তাঁর অনুসন্ধান করতো তবে সে শুধু সুগন্ধির কারণেই ভার সন্ধান লাভ করতো ।
বহুদিন ধরে মনের গোপনতম প্রকোষ্ঠে এ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিলাম যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মহান পূতঃ পবিত্র জীবনাদর্শ বাংলাভাষী মুসলমানদের খেদমতে পেশ করবো ।
আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ্ পাকের অগণিত শোকর যে, তিনি হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দেদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (র)-এর অমর অবদান— “নশরুত্যীব ফি যিকরিন্নাবীয়্যিল হাবীব” (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ “যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা” নামে পেশ করার তওফিক দান করেছেন ।
আল্লাহ্ পাকের এ বিশেষ নেয়ামত এবং তওফিকের জন্য তাঁর মহান দরবারে পেশ করছি সেজদায়ে শোকরানা ।
যাঁরা এ গ্রন্থের জন্য আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং যাঁরা এ পর্যায়ে আমাকে সাহায্য করেছেন, আমি তাঁদের সকলের জন্য আল্লাহ্ পাকের মহান দরবারে দু' হাত তুলে মুনাজাত করছি।
প্রিয় পাঠক!
দিন, রাত, সকাল, সন্ধ্যা, সপ্তাহ, মাস এবং বছরের নামে এ ক্ষণভঙ্গুর জীবনের মুহূর্তগুলো অতিবাহিত হচ্ছে। ঘনিয়ে আসছে এ ক্ষণস্থায়ী জগৎ থেকে বিদারের পালা। প্রতি মূহূর্তে এগিয়ে যাচ্ছি প্রকৃত মঞ্জিলের দিকে। সেদিন দূরে নয়, যেদিন আমাকে হাযির হতে হবে এক আল্লাহ্ পাকের মহান দরবারে।
কিন্তু কি নিয়ে বাব? সেদিনের জন্য কোনো সম্বলই যে সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি, তাই ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থার অবশেষে এ গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেছি । প্রিয়নবী হযরত রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মহান আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে তাঁর আশ্রয় নিয়েছি। যাতে করে কেয়ামতের কঠিন দিনে তাঁর শাফাআত লাভে ধন্য হই। রহমতুল্লিল আলামীনের আশ্রিত হয়ে আল্লাহ্ পাকের রহমতের ছায়া লাভ করি ।
স্থূলভ ঃ এ আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়েই জীবনের সকল সাধনা এবং সকল আরাধনা! হে আল্লাহ্! কবুল কর। হে আল্লাহ্! কবুল কর। হে আল্লাহ্! যদি এ গ্রন্থের জন্য আমাকে সন্নোর দান করা পছন্দ কর, তবে তা এ অধমের তরফ থেকে তোমার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে দিও। আর এ অধমকে তাঁর মহান দরবারে বারে বারে হাযির হয়ে সালাম পেশ করার এবং তাঁর শাফাআত পাভ করার তওফিক দিও ।
-বিনীত