খাঁটি সোনা চকচক করে না। অনেকটা কাঁসার মতো দেখায়। যখনই ভেজাল করা হয়, মেকি করা হয়, খাদ মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখনই চকচক করে। চোখ ঝলসানো রূপটি বেরিয়ে আসে। খাঁটির সঙ্গে ভেজাল মিশালে ঝলমল করে। রমণীর রূপটিকে মেকাপ করলে রূপ ও মাধুর্যটি আরও ঝলসিয়ে ওঠে। মেকাপ কিন্তু নকল, মেকি, ভেজাল। খাদ ধুয়ে ফেলুন, আসল সোনার রূপ যেমন কাঁসার মতো দেখায়, সে রকম রমণীর আসল রূপটি ধরা পড়ে যায়। উলঙ্গ আদম রূপটি প্রকাশিত হয়। ভালো লাগে না দেখতে। তাই আবরণের আবরণীটি জড়িয়ে দিলে আকর্ষণটি আরও বেড়ে যায়। যত ভেজাল তত আকর্ষণ। ভেজাল নেই, আকর্ষণ নেই। সোনা উলঙ্গ, খাদটি কেবলই পোশাক। পোশাক যদিও মেকি তবুও রূপ ও মাধুর্য ফুটিয়ে তোলে।
মোকাররাবিন আশফি নামটি বাবা-মার দেওয়া। আমি বাবা জাহাঙ্গীর একটু বড় করে নাম রেখেছি। সেই নামটি হলো আসনা আশিকে আফসানা আশফি। ভালো গান গায়। আমার কাছে খুবই ভালো। সব দিক দিয়েই ফুলের একটি অপূর্ব পাপড়ি। শিক্ষায়, বিদ্যায়, জ্ঞানে এবং অধ্যাত্মবাদে একজন অপূর্ব প্রেমিকা। আমার লেখা গানগুলো উর্দু ও পার্সি ভাষায় মিশ্রিত। সবগুলো গানই সুর ও লহরীতে ফুটিয়ে তুলেছে। সেই পরম প্রিয় বোন আশফি সংগীত পরিবেশন করে আমাকে বিমোহিত করেছে। কখনো কখনো আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। অধ্যাত্ম সংগীতে চাওয়া-পাওয়া অবশ্যই থাকে। সেই চাওয়া-পাওয়ার নামটি আত্মোৎসর্গের চাওয়া। আপন অস্তিত্বকে তিলে তিলে বিলিয়ে দেবার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। সেই পরম প্রিয়, পরম স্নেহের আসনা আশিকে আফসানা আশফির হাতে তুলে দিলাম আমার রচিত মারেফতের গোপন আলোচনা নামক বইটি।
ধন্য হোক, সার্থক হোক, সুন্দর হোক আশফির ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত জীবনটি ।
মারেফতের গোপন আলোচনা
অস্তিত্ব, ইল্লা-ব্যতীত, ছাড়া আল্লাহ। নাই কোনো অস্তিত্ব আল্লাহ ছাড়া। সুতরাং দুই বা অনেক অথবা বহু দেখাটাই ভুল এবং বিভ্রান্তির দর্শন। এই বিভ্রান্তির দর্শনটি কোথাও থাকে না, থাকে কেবলমাত্র একটি স্থানে আর সেই স্থানটির নাম হলো কালব তথা মন বা হৃদয়। আরবি ভাষায় ইহাকে শেরেক বলা হয়। এই শেরেকটি সৃষ্টি-জগতের কোথাও অবস্থান করে না, শুধুমাত্র একটি স্থানে অবস্থান করে, আর সেই স্থানটির নাম হলো কাল্ব। কোরান বলছে, পূর্ব-পশ্চিমের যে দিকেই তাকাও না কেন আল্লাহ ছাড়া কিছুই নাই। অথচ একজন মানুষ সবই দেখে কিন্তু আল্লাহকে দেখে না। তাই বলা হচ্ছে, শক্ত করে ধরো একজন উকিল, একজন পীরে কামেল, যিনি তোমাকে একের দর্শন দেখাতে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবেন। যিনি তোমাকে তৌহিদে নিয়ে যাবেন তাহাকে রাহনুমাও বলা হয়। রাহনুমা শব্দটির অর্থ হলো তৌহিদের দেশে তথা সত্যের দেশে যে নিয়ে যাবে তাকে ধরতেই হবে, তাছাড়া অসম্ভব। সন্তান পাবার আশা করলে অবশ্যই তোমাকে একজন রমণীকে বিয়ে করতে হবে। রমণী ছাড়া সন্তান পাওয়া সম্ভব নয় (পালিত সন্তান নয়)। অবশ্যই এই কথাটিও সত্য যে আল্লাহর অসীম জ্ঞানভাণ্ডারে কোনো কিছুতেই ভেটো দেওয়া যায় না অর্থাৎ শেষ হয়ে যাওয়া বলা যায় না। জ্ঞানের শেষ কথাটি ঘোষণা করার পর মুসা কালিমুল্লার মতো জাঁদরেল নবি, যাঁর নামটি কোরান-এ একশ পঁয়ত্রিশ বার বলা হয়েছে, সেই জাঁদরেল নবিকে আল্লাহ ছেড়ে দেন নাই। তাই আল্লাহ্ মুসার মতো জাঁদরেল নবিকে শিক্ষা দেবার জন্য দুই সমুদ্রের মিলনক্ষেত্রে একজন আবদুহুর সাক্ষাৎ পাবেন বলে ঘোষণা করলেন। এবং বললেন এই বলে যে, আরও অনেক-অনেক ঊর্ধ্বের জ্ঞান এখনো তোমার জানা নাই। একটু লক্ষ করুন, সুরা কাহাফে একটি বারের তরেও আবদুহুকে নবি অথবা রাসুল বলা হয় নাই। তাই ওহাবি, খারেজি এবং সালাফিরা মহা ফাঁপড়ে পড়ে যান। ফাঁপড়ে পড়ে যান এই জন্য যে, গুটি কয়েক ফেরকা আছেন যাঁরা আল্লাহর ওলিই মানেন না। এই ওহাবিরা তখন গোঁজামিল দিয়ে আবদুল্লাহকে নবি বানিয়ে ছাড়েন। যদিও এই ফেরকার অনুসারীরা ভালো করেই জানেন যে, আবদুহু কখনো নবি নহেন। আমরা সুরা কাহাফে দেখতে পাই যে, আল্লাহর আবদুহুর তিনটি ঘটনার প্রশ্নে মুসা কালিমুল্লার মতো নবিও জ্ঞান অর্জন করা দূরের কথা, ধৈর্যই ধারণ করতে পারলেন না। তাই পরিশেষে আল্লাহর আবদুহু মুসা কালিমুল্লাকে বিদায় করে দেবার সময় একটি কথাই বলেছিলেন, আর সেই কথাটি হলো আপনার পথে আপনি
