লার নির্দেশ -নাগাসাকিতে
মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা ১৫
ত্রিশ হাজার মানুষ ধুঁয়া হয়ে আকাশে মিশে গিয়েছিল। কারণ বোমাটির উত্তাপ ছিল আনুমানিক চার হাজার সেলসিয়াসের মতো। আনুমানিক বারোশত সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কঠিন স্টিলও গলে পানি হয়ে যায়, সেখানে মানুষের অস্তিত্ব কেমন করে থাকবে?
সূর্যের উত্তাপ আনুমানিক চার লক্ষাধিক সেলসিয়াস হবে। আর এই চার লক্ষ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সূর্যটি আধা হাত উপরে থাকবে, আর 'পানি-পানি' বলে চিৎকার করতে থাকবে- এই গাঁজাখুরি, অদ্ভুত, বানোয়াট, মেকি জাল হাদিসটি কেমন করে মেনে নেব? তাহলে কে না প্রতিবাদ করতে চাইবে? আবার প্রতিবাদ করতে গেলেই মাননীয় কাঠমোল্লারা 'নাস্তিক- নাস্তিক' বলে চিৎকার করতে থাকে।
৫. মিথ্যাকে বার-বার সত্য বললে তাছির হয়
শাহ্ সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী আল বরাইগুনী অধম বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর আল সুরেশ্বরীর আপন চাচা। অল্প বয়সেই আমি আমার পিতা মরহুম হেলাল উদ্দিন আহমেদ আল ফুরফুরিকে হারালাম। বাবা কেরাণীগঞ্জ উপজেলার প্রথম এমএ, বিটি। চাচা নিজগৃহে আমাকে লালন-পালন করেন। আজ হতে বাষট্টি বছর আগে একনম্বর নবীনচন্দ্র গোস্বামী রোডে চাচার কোলেই লেখাপড়া শিখেছি। চাচা আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসা দিয়ে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। সেই চাচার কাছেই কোরান-হাদিসের শিক্ষাটি পেয়েছি। অবশেষে আমি চাচার এত প্রিয় হয়ে গেলাম যে, তাঁর প্রতিটি বইয়ের নামকরণগুলো আমাকে করতে হয়েছে। এই সেই চিশতী সাহেব যিনি আমার লিখনীগুলো পড়ে বলতেন, 'দুনিয়াতে তোর জোড়া নাই।' চাচা ও ভাতিজার মধ্যে সম্পর্কের ফাটল ধরাতে কোনো এক পুস্তক প্রকাশক উঠে-পড়ে লেগেছিল। সেই প্রকাশকের নাম ইচ্ছে করেই বললাম না।
৬. কোথায় মানুষের সমাগম বেশি হয়।
সবচাইতে বেশি মানুষের সমাগম হয় কুম্ভ মেলায়। আনুমানিক দুই থেকে তিন কোটি মানুষের সমাগম হয়। তারপর সমাগম হয় খাজা গরিবে নেওয়াজের ওরশ মোবারকের সময়। আনুমানিক এক থেকে দেড় কোটি মানুষের সমাগম হয়। তারপর সমাগম হয় হজ মৌসুমে। তারপর সমাগম হয় বাংলাদেশের টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাশে হজরত ইলিয়াস শাহ মেওয়াতির
মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা ১৯
তাঁরা কোনো দুনিয়ার বাদশাহি চাননি। তবুও ক্ষমতার সিংহাসন চলে যাবার ভয়ে নবিবংশের আওলাদদেরকে হত্যা করা হয়েছে নির্মমভাবে। মহানবির বংশের আওলাদদের রক্তে আমরা হোলি খেলে আমাদের ভাগ্যকে আমরা পরিবর্তন করে নিয়েছি। মহানবির আদেশ, আহলে বায়েতকে (নবিংশ) শক্ত করে ধরে রাখলে পথহারা হবে না। এই মহামূল্যবান আদেশটি গাদিরে খুমে এক লক্ষের কিছু বেশি সাহাবাদের সামনে ভাষণ দেবার সময় বলেছিলেন। এই ভাষণের হাদিসটির কোনো সনদের প্রয়োজন হয় না। কারণ লক্ষ সাহাবাদের সামনে মহানবির ভাষণটি এই দুই রাজবংশ মুছে ফেলার সাহস পায়নি। কিন্তু শক্ত করে ধরে রাখা তো দূরে থাক বরং শক্ত হাতে নির্মমভাবে আহলে বায়াতকে (নবিবংশ) হত্যা করেছে। তাই পরিবর্তনের ভাগ্যটা কেমন হয়েছে এটা
কি বুঝতে পারছি না? তাই ছাপ্পান্নটি মুসলিম দেশ পৃথিবীতে থাকা সত্ত্বেও আমাদের ভাগ্যটিকে আমরা যেভাবে পরিবর্তন করে নিয়েছি সে রকম ভাগ্য নিয়েই পৃথিবীতে বাস করছি। কত সুন্দর (?) আমাদের ভাগ্যলিপির ইতিহাস।
১১. ইমাম হোসায়েন (আ.)-এর মর্যাদা
মহানবির কন্যা খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমার স্বামী মাওলা আলিকে কৃষ্ণার মসজিদে নামাজরত অবস্থায় আবদুর রহমান ইবনে মোলজেম শহিদ করেন। মাওলা আলির বড় ছেলে ইমাম হাসানকে খাদ্যের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মুয়াবিয়া শহিদ করেন। ঐতিহাসিকেরা বলেন যে, সেই বিষ এতই ভয়ংকর ছিল যে, রক্তবমির সঙ্গে কলিজার টুকরো অংশগুলো বেরিয়ে গেছে। পাঠক ভাই, শুনতে কেমন লাগছে? আপন শাশুড়ি সালাম পায় না নামের শাশুড়ি পা বাড়ায়। বলছি এই জন্য যে, বুদ্ধিমানকে ইশারা করলেই পরিষ্কার বুঝতে পারে।
মাওলা আলির পুত্র এবং মহানবির সবচাইতে আদুরে নাতি শহিদে আজন ইমাম হোসায়েনকে কারবালার মধ্যে এজিদের হুকুমে ইবনে জিয়াদের নির্দেশে আনাস ইবনে নাখই ওরফে সীমার শহিদ করেছে। কেবল কি ইমাম হোসায়েন? না, অনেক আপনজনও শহিদ হয়েছেন। তার মধ্যে ইমাম হোসায়েনের বড় ছেলে আলি আকবর, দশ মাসের দুধের শিশু আলি আসগর, ইমাম হাসানের ছেলে ইমাম কাশেম এবং ইমাম হোসায়েনের ভাই ইমাম আব্বাস এবং ইমাম আউন এবং আরও অনেকে। ইমাম হোসায়েনকে