অসীম ও সীমের মিলন মেলা এ মানুষ। সৃষ্টি অসীম নয়, তা সীমের কিতাবই আছে, যদিও তা অক্ষ শাস্ত্রের বাহিরের হিসাব, তবু তার সীম আছে। বিমূর্ত আল্লাহ নিজ রূপ দর্শন করতে গিয়ে মানুষ মোহনার মূর্তমান। এখানে আল্লা নিজকে চিনলেন, দেখতে পেলেন, সেইকে এরূপে পেলেন। যে রূপে আল্লাহ মিয়াকে দেখলেন সে রূপের মধ্যেই তাঁর অবস্থান, একত্বের মাঝে লীন হয়ে আছেন, দ্বৈত নেই অথৈতাই তাঁর লীলা । এবং ইহাই আল্লাহর হাবিব রাল মুহাম্মদ। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আল্লাহর হাবিব ৫৭০ সালে ১২ই রবিউল আউয়ালে আগমন করছেন, দিনটিও হচ্ছে সোমবার সোবহ সাদেকের সময়। এ ঘটনাটি চিরন্তন- শাশ্বত কালের ঘটনা, চির-বর্তমান। আমাদের মানবধর্ম দ্বীন-এ-মুহাম্মদীর বা ইসলামের ইলেম বা সাধনা এখানেই যে, আমাদেরকে দ্বীন-এ-মুহাম্মদীতে কায়েম হতে হবে তথা দ্বৈত অবস্থা হতে বা আঠার হাজার মাখলুকাতের গুণ-খাছিয়ত বা বন্দিত্বের দশা হতে বের হয়ে অদ্বৈত জগতে বা অহেদানিয়াতের জগতে স্থিত হতে হবে, মুহাম্মদ হতে হবে। মানুষ স্থিত ছিল উপস্থিত হলো, নিত্তি ছিল হাস্তি হলো এবং এখানে এসে খন্ড ভাব-ভাবনায় অখন্ডকাল হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আমি, তুমি বিভেদের দেয়াল সৃষ্টি হয়ে আছে তথা পর্দাবৃত হয়ে আছে। অদৃশ্য হতে দৃশ্যের দিকে আসতে তথা নিজ পরিচয় নেওয়ার বাসনায় নয় দেশে নব রূপ ধারণ করলেন। তার মধ্যে বাগে এরেমে এসে তিনি নামের পরিবর্তন ঘটালেন বা হিজাব ধারণ করলেন, হিজাব আর হিজাবের মধ্যে স্কুল দৃষ্টিতে প্রভেদ দেখালেও কিন্তু তৌহিদ আনে বা সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে অভেদ সুন্দরের অদ্বৈত লীলা বৈ আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। “সানুরিহিম আয়াতিনা" এ আয়াতের মর্ম এখানেই নিহিত আছে। মানুষ তার আদি পরিচয় বা ঠিকানা হতে বিস্তৃত হয়ে আছে। আমাকেই আমি হারিয়ে ফেলেছি। আত্ম-পরিচয় লাভ করতে পারলে বা মান আরাফার তালিম জানা হলে সে আমিকে এ আমিতে দর্শন করা যায়। অর্থাৎ সে আমিকে এ আমিতো পুর্মলন। এ ছোট বইটিতে সে অদ্বৈতের দীপা ক্ষেলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ বেমেছাল, না জানি, তাঁর হাবিব মুহাম্মদের মধ্যে প্রয়োগিক অবস্থা চির বর্তমান মূর্তমান। বুঝাতে চেষ্টা করা হয়েছে। সেজন্যই বইটির নামকরণ করা"জীরে বেনজীর"। জানি না পাঠককুল কিভাবে নিবেন, বুঝবেনকাজী বেনজীর হক চি
নজীরে বেনজীর
আল্লাহপাক হুয়াল হাইউল কাইয়্যুম-চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী তথা জাত কম (কাগজে সংকলিত কোরানের সুরা আলে ইমরান : ১) আদিম অবস্থায় আসমায়ে কল্গুনীর ভিতর লা ইলাহা সাথে নিয়ে মুখফি ছিলো। এই অবস্থাটি তাঁর স্থির, নিরব, ক্রিয়াশূন্য, বেমেছাল, লাছানী, বিমূর্ত, প্রয়োগহীন, আমা, নিস্তদ্ধ দরিয়া-জা উলুহিয়াত। তাঁর এই অবস্থা হতে জাত-মতলেকের এরাদা হানা দেওয়াতে হাইয়ানের প্রকাশ হলো। এই হাইয়্যুন হতে আলিমুন, মুরিদুন, কাদিরুন তিনটি এবং সামিউন, বাসিরুন এবং কালিমুন তিনটি যথাক্রমে- পয়গাম্বরী এবং বান্দাই ছয়টি সিফাতের প্রকাশ ঘটে। মূলতঃ কুরে সেফাতের সমষ্টিই জাতপাক বা আজজাতু কুলগৃহ হাইয়ান, আজজাত কুলহুহু মুরিদুন, আজজাতু কুলপুহ আলিমুন, আজজাতু কুলহু কাদিরুন বা সামিউন বা বাসিরুন বা কালিমুন তাঁর অপ্রকাশিত জগতই জাত বাহাত। তাঁর কোনো বিভক্তি নেই, তিনি লাহানী ওয়াহেদ আল্লাহ। ওয়াহেদ আল্লাহ নিজেকে প্রকাশ করার জন্য, নিজ রূপ দর্শন করার জন্য আহাদ রূপ ধারণ করলেন (এখলাছ : ১)। আহাদ আল্লাহ আসমানী 'মীম' ধারণ করে আসমানী নাম 'আহামদে রূপ নিলেন। এ স্তরে আহামদ হলেন চরম বা পূর্ণতম প্রশংসাকারী। শেষে মালামাতকারী সৃজনশীল শক্তি বা স্বভাবের প্রভাবে জেসমানী 'মীম' ধারণ করে নাম ধরলেন 'মুহাম্মদ' বা সৃষ্টির পূর্ণতম প্রকাশ বা প্রশংসিত। হিজাবে মুহাম্মদী বা মানবীয় বোরকার আড়ালে একমাত্র জাতে পাকের জালোয়া-ই চির-বর্তমান বিদ্যমান। আল্লাহপাক এখানেই স্বীয় রূপ দর্শন করলেন, চিনলেন ব পরিচয় নিলেন। “কুম্ভকানজান মুখফিয়ান আল্লাহপাক এ অবস্থা হতে পরিচয় লাভের জন্য "না" আবার আন উরাফা" অর্থাৎ সুতরাং স্বীয় পরিচয় লাভের করলেন। প্রয়োগহীন নূর তথা বে-মেছান নূর প্রয়োগে আনার জন্য বিবর্তনের কা ধারার প্রোকে বহমান হয়ে পূর্ণতম সৃষ্টিতে স্থিত হলেন
নিজ র র মুহাম্মদী সৃষ্টি করলেন বা প্রকাশ ঘট
হতে আঠার হাজার মামলুকাত সৃষ্টি করলেন।
সাধ্য আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবলতে কালাম নাতে হবে। নামি কে " অর্থাৎ আমি আল্লাহর নূর হতো এবং
কাল অখন্ড, আল্লাহই হলেন কাল, অখন্ড মহাকাল। তাঁর হাবিব মুহাম্মদও অখন্ডকাল। এক মুহাম্মদই জগতব্যাপী-সর্বত্র বিরাজিত। যারা খন্ডকালের ভাব-ভাবনায় অখন্ডকাল হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে ত্রিকাল চক্রে ঘূর্ণিপাক খাচ্ছে, তারা ত্রিকালের গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। দ্বীন-এ-মুহাম্মদীর শিক্ষা হলো এ ত্রিকালের আবর্তন হতে বের হয়ে চতুর্থ মাত্রায় বা দায়রায় আরোহণ করে অখন্ডকালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। মুহাম্মদী জ্ঞান ব্যতিত তা কখনো সম্ভব নয়। আর মুহাম্মদী জ্ঞান আর আল্লাহর জ্ঞান অভেদ আছে, কোনো প্রভেদ নেই। এ বিষয়ে যাদের ধারণা নেই তাদের জন্য নয়, যারা সে অখন্ডকালে অধিষ্ঠিত হয়ে চিরঞ্জীব জগতে বা লা-মউতে বা চির-স্বাধীনতার দেশে বাস করতে চায়, হাবিবে খোদা মুহাম্মদ রাছুলের অবস্থান চির-বর্তমান চিনে বা চিনতে চায় তাদের জন্য এ লেখাটি।
