প্রকাশকের কথা
মানুষ হলো দেহ ও আত্মার এক অপূর্ব সমন্বয়। দেহের জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন তদ্রূপ আত্মার জন্যও রয়েছে খোরাকীর ব্যবস্থা। দৈহিক খাদ্যাভাবে যেমন মানুষ কৃশকায় ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তদ্রূপ আত্মিক খাদ্যের অভাবে তার ক্ষতি সাধিত হয়। মানুষের আত্মার সে খাদ্যের নাম হলো, ‘যিকরুল্লাহ' বা আল্লাহ্ স্মরণ। আল্লাহ্র যিকরের মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহ্র নিকট থেকে নিকটতর হতে থাকে। এমনকি এক সময় তাঁর সত্তার সাথে একীভূত হওয়ার মতো হাল সৃষ্টি হয়। এ পুরো বিষয়টিকে তাসাওউফ, আর এ বিশেষ হাল বা অবস্থাটিকে বলা হয় ‘ফানা ফিল্লাহ্' ও ‘বাকা বিল্লাহ'। এ আধ্যাত্মবাদ বা তাসাওউফ চর্চা ইসলামের শুরুলগ্ন থেকে চলে এসেছে। যদিও এর নামকরণ হয়েছে বহু পরে। এ আধ্যাত্মবাদের প্রাণপুরুষ হলেন গাওসুল আযম বড়পীর সায়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী (র) । তিনি তাসাওউফের চারটি প্রসিদ্ধ তরীকার অন্যতম ‘কাদেরিয়া তরীকার' প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর লিখিত 'সিররুল আসরার' গ্রন্থের অনূদিত রূপ এটি। তরুণ অনুবাদক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আল-আযহারী গ্রন্থটির অনুবাদ করে এর নাম দিয়েছেন ‘মহারহস্য।
গ্রন্থটিতে তাসাওউফের উচ্চাঙ্গের কিছু পরিভাষা বিশ্লেষণপূর্বক এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। গ্রন্থটি সূফী মহলে ও এ সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু গবেষকগণের নিকট ব্যাপক সমাদৃত হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ।
মহান আল্লাহ্ আমাদের এ প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমীন!
ড. সৈয়দ শাহ্ এমরান
প্রকল্প পরিচালক
ইসলামী পুস্তক প্রকাশনা কার্যক্রম-২য় পর্যায়
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মহাপরিচালকের কথা
তাওহীদ ও মা'রিফাতের নূর দ্বারা অন্তঃকরণকে প্রবৃত্তির কামনা থেকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে যারা আল্লাহ্ তা'আলার পথে ধাবিত হয় তাঁরাই সূফী। আহলে সুফফার সাথে তাদের সাদৃশ্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এ জন্য তাদেরকে সূফী বলা হয়। সূফীগণ সর্বদা আল্লাহ্র যিকর বা স্মরণে মত্ত থাকেন । এ সূফী শ্রেণির লোকদের প্রধান স্বপ্নপুরুষ হলেন গাওসুল আযম সায়্যিদ আব্দুল কাদির জিলানী (র) ।
তিনি সূফী তরীকাসমূহের অন্যতম ‘কাদেরিয়া’ তরীকার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ‘মুহিউদ্দীন' বা দ্বীনের জীবনদাতা ও সর্বোপরি বড়পীর হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘সিররুল আসরার’-যাতে সূফীবাদের গূঢ় রহস্যাবৃত বিষয়গুলো সাবলীলভাবে খোলাসা করা হয়েছে। এতে বর্ণিত হয়েছে, মানুষের আসল ঠিকানায় প্রত্যাবর্তনের বর্ণনা, তাওবা ও তালকীন, যিক্ব, দীদারে ইলাহী, একাকীত্ব ও নির্জনবাসের বর্ণনা, ঘুম ও তন্দ্রার স্বপ্নের বর্ণনা ইত্যাদি। গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অনুবাদক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আল-আযহারী।
গ্রন্থটি পাঠে পাঠক আধ্যাত্মিক জগতের অনেক রহস্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে নিজেদের জীবনকে তাসাওউফের রঙে রঙ্গীন করে ইহ-পরকালে সফলতা অর্জন করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে এটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে বলে তাঁর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।
মহান আল্লাহ আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াসটুকু কবুল করুন। আমীন!
আনিস মাহমুদ মহাপরিচালক ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অনুবাদকের আরয
সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক অসিম দয়াময় ও প্রেমময় এক আল্লাহর জন্য। অসংখ্য-অগণিত দরুদ ও সালাম সৃষ্টিকুলের মুক্তিরদূত রাহমাতুল লিল ‘আলামিন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা আহমদ মুজতবা সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর। আরো সালাম পূত-পবিত্র আহলে বায়ত, হিদায়াতের সিতারা সাহাবায়ে কিরাম ও যারা মহান আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং কিয়ামত অবধি করবেন তাদের ওপর।
মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে ওলীকুলের গৌরব মাহবুবে সুবহানী কুতুবে রব্বানী বড়পীর হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (র)-এর “ অয়া হয়। " গ্রন্থের ভাষান্তরের কাজ সমাপ্ত করতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ।
আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশত বছর আগে আরবী ভাষায় লিখিত এ গ্রন্থকে বাংলা ভাষায় যথোপযুক্তভাবে রূপদানের চেষ্টা করেছি। ইলমে তাসাওউফের ক্ষেত্রে এ গ্রন্থটি মাইলফলক স্বরূপ। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আপামর জনতার কাছে ইলমে মা'রেফাতের স্বরূপ তুলে ধরার নিমিত্তেই এ গ্রন্থের সংকলন। যেন অজ্ঞতার দরুণ প্রচলিত ভ্রষ্ট-ধর্মব্যসায়ীদের কবলে তাদের ঈমান হরণ না হয়ে যায় ।
আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমার শ্রদ্ধেয় পিতা শায়খুল হাদীস আল্লামা হাফেজ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (মুহাদ্দিস, ফরাযিকান্দি ওয়েসিয়া কামিল মাদ্রাসা) ও আমার পরম শ্রদ্ধেয় মায়ের। আরো কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা এ গ্রন্থের ভাষান্তরে আমাকে বিশেষভাবে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দিয়েছেন-সকলের প্রতি। গ্রন্থটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশ করায় এতদ্সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, হে আল্লাহ! আমাদের এ সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আপনি কবুল করুন!
