সুবিখ্যাত সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থের মধ্যে সহীহ বুখারী শরীফ ও সহীহ মুসলিম শরীফ গ্রন্থ দুটি বিশুদ্ধতায় ও নানা বৈশিষ্ট্যে শীর্ষস্থানীয়। তারপর এ গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে কোন কোন দিক দিয়ে বুখারী শরীফকে হাদীস শাস্ত্রবিদগণ শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী বললেও কোন কোন দিক দিয়ে আবার মুসলিম শরীফকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন। আসলে দুটি গ্রন্থই সমমর্যাদার অধিকারী।
তবে সে যাই হোক না কেন, আরবী ভাষার গ্রন্থ হতে হাদীসের জ্ঞানার্জন করা আরবী না জানা লোকদের জন্য কোনক্রমেই সম্ভব নয়। এ কারণেই মাতৃভাষায় অনুবাদের প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থ কতিপয় প্রকাশনা হতে অনূদিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে মুসলিম শরীফ গ্রন্থখানা বিশুদ্ধতায় ও মর্যাদায় অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হওয়া সত্ত্বেও তার অনুবাদ গ্রন্থের সংখ্যা খুবই কম। সে অভাব পূরণের প্রেক্ষিতে ও প্রয়োজনের তাগিদে আমার এ প্রয়াস।
মুসলিম শরীফের অত্র অনুবাদ গ্রন্থটি অত্যন্ত সহজ সরল, চলতি ও বোধগম্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
কম শিক্ষিত পাঠক থেকে অধিক শিক্ষিত লোকগণও এ গ্রন্থ পাঠ করে হাদীসের মর্ম অনুধাবন করতে পারবে। ইমাম মুসলিম (রহ) গ্রন্থটি যেভাবে বিভিন্ন অধ্যায়ে ধারাক্রমানুসারে সাজিয়েছেন আমিও সেভাবেই সাজিয়েছি। এতে বিভিন্ন অধ্যায় সংরক্ষিত আছে। বিশেষতঃ তাকরার হাদীসসমূহ বাদ না দিয়ে মূল কিতাবের সমস্ত হাদীসই অনুবাদ করেছি। সনদের শেষ বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখিত হয়েছে এবং কিছু টীকা-টিপ্পনীরও উল্লেখ আছে। মূল মুসলিমের সাথে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অনুবাদ করা হয়েছে। এ গ্রন্থখানা মাদ্রাসার ছাত্রদের বিশেষ উপকারে আসবে। আমার এ অনুবাদ গ্রন্থখানা পড়ে আশা করি প্রত্যেকেই উপকৃত হবেন।
একটি বিশেষ জ্ঞাতব্য বিষয় হলো, সনদের অনুবাদের ক্ষেত্রে আমি শুধু অধস্তন এবং ঊর্ধ্বতন রাবীদের নামই উল্লেখ করেছি। মধ্যবর্তী রাবীদের নামোল্লেখ করিনি এবং এজন্যই বলা হয়েছে যে, অধস্তন রাবী ঊর্ধ্বতন রাবী হতে বর্ণনা করেছেন। আসলে কথাটি হবে অধস্তন রাবী মধ্যবর্তী রাবীর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন রাবী হতে বর্ণনা করেছেন।
সাবধানতা : সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন, "মহান আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর (স্রষ্টার) উপর সন্তুষ্ট”। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ বলেন, "সাহাবায়ে কেরাম সবাই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ন্যায়পরায়ণ; তুমি যাকে অনুসরণ করবে রেহাই পাবে"। মহান ও পুণ্যবান সাহাবীদের কোন বক্তব্যকে অবমূল্যায়ন বা মিথ্যা ভাবলে গুনাহগার হবে। কাজেই সাহাবীদের হাদীসের সমালোচনা করা নিষিদ্ধ। সুতরাং হাদীস শরীফ পাঠকালে কোন প্রকার গড়মিল বা অসামঞ্জস্য দেখা দিলে ব্যাখ্যা গ্রন্থের সাহায্য
নেয়া উচিৎ। এতদ্ব্যতীত ফেকাহের কিতাবাদিও প্রচুর পাঠ করলে হাদীসের মর্ম অনুধাবন করা সহজতর
হবে। হাদীসে কোন মাযহাবের বিপরীত কোন বর্ণনা আসলে সে মাযহাবের গ্রন্থাদি পড়ে সমাধানে
পৌঁছতে হবে।