2999 টাকার উপরে অর্ডার করলে পাচ্ছেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি

2999 টাকার উপরে অর্ডার করলে পাচ্ছেন ডেলিভারি চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি

সহীহ বুখারী শরীফ (১ থেকে ১০ খণ্ড একত্রে)

Price:
৳1300    ৳ 858.00
Charge:
ঢাকা সিটির মধ্যে ডেলিভারি চার্জ 59 টাকা
ঢাকা সিটির বাইরে ডেলিভারি চার্জ 99 টাকা

                                                 ভূমিকা

بِسمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيم

الحَمْدُ للهِ رَبِّ العَلَمِيْنَ حَمْدَ الشَّاكِرِينَ وَالصَّلوةُ وَالسّلامُ الأَكْمَلاَنِ عَلى أَشْرَفِ الأَنْـ

المُرْسَلِينَ وَعَلَى الهِ وَأَصْحَابِهِ وَأَوْلِيَاء مِلَّتِهِ وَأمْتِهِ أَجْمَعِينَ . أَمَّا بَعْدُ سَيّدِ ٥

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের যিনি নিখিল ভুবনের স্রষ্টা ও প্রতিপালক এবং যিনি সর্বজ্ঞানের আধার। অগণিত সালাম ও দুরুদ তাঁর প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মদ-এর উপর যিনি রাহমাতুল লিল আলামীন যার পবিত্র আত্মা থেকে উৎসারিত হয়েছে উলুমে নবুওয়তের ঝরণাধারা। পবিত্র কুরআনের পরই যার মুখ নিঃসরিত বাণীর মূল্যায়ন হচ্ছে ইসলামী জগতে।

অর্থাৎ- বিশ্বমানবের কল্যাণ ও ত্রাণার্থে তিনি যে মূল্যবান বাণী রেখে গেছেন তা অনুসরণ করলে মানবজাতি কিয়ামত পর্যন্ত বিপথগামী হবে না কখনও।

-এর

আর বুখারী শরীফের হাদীসসমূহকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ও প্রাধান্য দেয়া হয়। সুতরাং রাসূল বাণীগুলো আয়ত্ত করতে হলে এলম ও জ্ঞানার্জনের প্রয়োজন। এ জ্ঞানার্জন আল্লাহ পাকের করুণা ব্যতীত সম্ভব নয় । যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন-

اَلرَّحْمَنُ - عَلَّمَ الْقُرْآنَ - خَلَقَ الإِنْسَانَ عَلمَهُ الْبَيَانُ .

করুণাময় আল্লাহ্ কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে তিনি সৃষ্টি করে বর্ণনাভঙ্গি শিখিয়েছেন।)

বাস্তবে আল্লাহর করুণা ব্যতীত মানুষ জ্ঞানার্জন করতে পারে না, তবুও তাকে জ্ঞানার্জনের চেষ্টা তদবীর করতে হবে আপ্রাণ। জ্ঞান ব্যতীত মানুষ আল্লাহ ও রাসূলকে এবং তাঁদের পথের সন্ধান লাভ করতে পারবে না আদৌ। আল্লাহ পাক মানুষ সৃষ্টি করে তাদেরকে সত্যের পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন আসমানী কিতাবাদিসহ ।

সর্বপ্রথম নবী হলেন হযরত আদম (আঃ) আর সর্বশেষ নবী হলেন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা । তিনি ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশে মা আমেনার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর উপর নাযিলকৃত কুরআনই হল সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ। যেমন আল্লাহ পাক বলেন-

اليومَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى . وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلامَ دِيْناه

অদ্য তোমাদের ধর্মকে পরিপূর্ণতা দান করেছি। পূর্ববর্তী নবীগণের উপর নাযিলকৃত গ্রন্থসমূহের সংশোধন সংযোজন করে হযরত মুহাম্মদ -এর মাধ্যমে দ্বীন ইসলামকে পূর্ণতা দান করেন। এ ইসলামী জীবন ব্যবস্থাই আল্লাহর নিকট মনোনীত। যেমন- আল্লাহ পাক বলেন- 

অর্থাৎ ইসলাম হল আল্লাহ পাকের নিকট মনোনীত ধর্ম ।

الدِّينَ عِنْدَ ال

আল্লাহ পাকের মনোনীত ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে মুসলমান হতে পেরে আল্লাহর দরবারে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পরন্তু ইসলামের এবং নবী মুহাম্মদ -এর পদাংক অনুসরণ তাঁর চাল-চলন, আচার-আচরণ অনুসরণ করতে ও অনুধাবন করতে আমাদেরকে কুরআন-হাদীস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন আরবী শিক্ষার। আরবী ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন ব্যতীত কুরআন-হাদীস বুঝা সম্ভব নয় ।

আল্লাহ পাকের আসমানী কিতাব কুরআন শরীফ শেষ নবী মুহাম্মদ -এর উপর অবতীর্ণ করে প্রকাশ্যভাবে ধর্মীয় নির্দেশাবলী মানবজাতিকে অবগত করেছেন। কুরআনের পরেই বুখারী শরীফের গুরুত্ব। আল্লাহ পাক ইশারা-ইঙ্গিতে নবী মন কে অনেক নির্দেশ দান করেছেন যেগুলো হাদীস রূপে প্রমাণিত ও গ্রহণযোগ্য ।

আল্লাহ পাকের বিনা হুকুমে নবীন কিছু করতেন না বা বলতেন না। যেমন- আল্লাহর বাণী

عَنِ الْهَوى إِنْ هُوَ إلا وحي يوحى مَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ

আল্লাহর অহী ব্যতীত তিনি কিছু বলতেন না। কাজেই বুঝা যায় কুরআন হল প্রকাশ্য অহী আর হাদীস হল গোপনীয় বাণী । যাকে আমরা কুরআনের ব্যাখ্যা বলতে পারি। কাজেই শেষ নবীর চূড়ান্ত বাণীসমূহ আমাদেরকে অবশ্যই মানতে হবে এবং তাঁর নির্দেশিত পথে চলতে হবে, নচেৎ নাজাত ও জান্নাত নসীব হবে না ।

হাদীস কাকে বলে

শাব্দিক অর্থে কথাবার্তাকে হাদীস বলা হয়। পরিভাষায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ -এর মুখ নিঃসরিত বাণী, ক্রিয়া কলাপ এবং প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মৌন সম্মতিকেও হাদীস বলা হয়। এতদ্ব্যতীত সাহাবায়ে কেরাম (রা)-ও তাবেয়ীগণের কথাবার্তা, কাজকর্ম এবং মৌন সম্মতিও হাদীস হিসাবে গ্রহণযোগ্য ।

ইসলামের মূল চারটি বিধান- কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াস। এর মধ্যে কুরআনের পরই হাদীসের গুরুত্ব দেয়া হয় । বস্তুত কুরআনের ব্যাখ্যাই হল হাদীস। যেহেতু রাসূল নিজের মন থেকে কিছু বলতেন না বা কোন নির্দেশ জারি করতেন না। তিনি যা কিছু বলতেন আল্লাহর হুকুমেই বলতেন । এজন্য আল্লাহ পাক বলেন-

مَا أَنكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَيْكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا

অর্থাৎ রাসূল তোমাদের নিকট যা নিয়ে আগমন করেছেন তা তোমরা গ্রহণ কর আর তোমাদেরকে যা করতে নিষেধ প্রদান করেন তা থেকে তোমরা ফিরে থেক। সুতরাং আমরা নবীর তরীকা মতে নিজের জিন্দেগী পরিচালনা করব এবং তাঁর নির্দেশাবলী মেনে চলতে বাধ্য থাকব।

হাদীস গ্রন্থের ইতিকথা

ইসলামী জীবন বিধানে পবিত্র কুরআন শরীফের পরই হাদীস শাস্ত্রের স্থান ।

রাসূল -এর যুগে তাঁর হুকুমেই পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ কাগজ না থাকায় গাছের পাতায়, বাকলে, পাথরে কাঠের উপরে ও চামড়ায় লিখে রাখা হত। এতদ্ব্যতীত হাফেজে কুরআনগণও মুখস্থ করে আয়াতগুলো

সংরক্ষণ করত।

রাসূল -এর জীবদ্দশায় হাদীস লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি হাদীস ও কুরআনের আয়াতের সঙ্গে সংমিশ্রণ হয়ে যাওয়ার আশংকায়। কোনটি কুরআনের বাণী আর কোনটি নবীর হাদীস তা পার্থক্য করা উম্মতের পক্ষে কঠিন হবে বিধায় তিনি হাদীস লিখিতভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেননি। সাহাবায়ে কেরাম মুখস্থ করে করে হাদীসসমূহ তাঁদের বক্ষে ধারণ করে রেখেছেন। এরপর নবী এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম মৌখিকভাবে হাদীস চর্চা করতে থাকেন। কোন কোন সাহাবা কতেক হাদীস লিখে ও মুখস্থ করে সংরক্ষণের চেষ্টা করেছেন। রাসূল এর এর নির্দেশে হযরত আবু শাহ ইয়ামানি কিছু হাদীস লিখে রাখেন। এতদ্ব্যতীত হযরত আবু বকর (রা), হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) সহ আরো অনেক সাহাবী কিছু হাদীস লিপিবন্ধ করে রেখেছিলেন বলে জানা যায় 

                             হাদীস লেখার প্রথম যুগ

রাসূল -এর জীবিতাবস্থায় যেসব সাহাবীগণ হাদীস লিখে সংরক্ষণ করেছেন নিম্নে তাদের নামোল্লেখ

করা হল।

১. হযরত আবু শাহ ইয়ামানী রাসূল

-এর নির্দেশে বিদায় হজ্জের খুতবা লিখেছিলেন।

২. হযরত আনাস (রা) কিছু হাদীস লিখে একটা ছোট পাণ্ডুলিপি আকার তৈরি করে তা রাসূল -এর দ্বারা সত্যায়িত করে রেখেছিলেন।

৩. হযরত আলী ইবনে আবি তালেব (রা)ও কিছু হাদীস লিখেছিলেন যেটাকে সহিফায়ে আলী বলা হয়।

৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা)ও একখানা হাদীস গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন।

৫. প্রথম দিকে হযরত আবু বকর (রা)ও একখানা হাদীস গ্রন্থ সংকলন করেন, অবশ্য পরে তা তিনি বাতিল

S

করে দেন।

হযরত সা'দ ইবনে ওবাদা (রা) একখানা সহীফা সংকলন করেন যার নাম সহীফায়ে সা'দ ইবনে

ওবাদা।

৭. হযরত সামুরা (রা)ও হাদীসের একখানা পাণ্ডুলিপি বা সহীফা সংকলন করেন। এমনিভাবে বিষয়ভিত্তিক সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ হাদীস মুখস্থ ও লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করেছিলেন। রাসূল-এর পরলোক গমনের পরও সাহাবীগণ হাদীসের চর্চা করে এর প্রসার ঘটাতে ত্রুটি করেননি। পরবর্তী সময়ে তাবেয়ীগণ সাহাবা কেরাম থেকে আংশিক বা পূর্ণভাবে হাদীস সংগ্রহ করে তা সহীফাকারে সংরক্ষণ

করেন।

৮. হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) বর্ণিত হাদীসসমূহ হযরত ওরওয়া ইবনে যুবায়ের (র) সহীফাকারে লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন।

৯. হযরত নাফে (র) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) বর্ণিত হাদীসসমূহ লিখে রেখে সেগুলোকে

মাকতুবাতে নাকে নাম দেয়া হয় ।

১০. হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) তাঁর বর্ণনাকৃত হাদীসগুলো পান্ডুলিপি আকারে রেখে দিলেন ।

১১. হযরত হাম্মাম ইবনে মুনাব্বেহ (র) তাঁর ওস্তাদ হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর বর্ণনাকৃত সমুদয় হাদীস লিপিবন্ধ করে রেখেছিলেন। এগুলোর নাম দেয়া হয় সহীফায়ে সহীহাহ ।

১২. হযরত বশীর বিন নুহাইক (র)ও হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর বর্ণনাকৃত হাদীসগুলো লিখে রেখেছিলেন ।

সাহাবাগণের মুখে মুসনাদে আবু হুরায়রা নামক গ্রন্থখানা মিসরের গভর্নরের নিকট সংরক্ষিত ছিল।

১০. হযরত ওহাব ইবনে মুনাব্বেহ এবং সোলায়মান ইবনে কায়স (র) হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা)-এর বর্ণনাকৃত হাদীসসমূহ লিখে রেখেছিলেন ।

১৪. হযরত সাঈদ বিন জাবের (র)-এর নিকট হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-এর বর্ণনাকৃত হাদীসগুলো পাণ্ডুলিপি আকারে লিখিত ছিল।

মোটকথা, সাহাবা কেরাম ও তাবেয়ীগণের যুগে মুখে মুখে অনেকের হাদীস কণ্ঠস্থ থাকায় তা লিপিবদ্ধ করে রেখে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়নি কিন্তু যখনই ক্রমান্বয়ে সাহাবী ও তাবেয়ীগণের বিলুপ্তি তথা ইন্তেকাল দেখা দেয় তখন আলেম সমাজ হাদীসের বিলুপ্তির আশংকায় তা লিপিবদ্ধাকারে সংরক্ষিত করতে ব্যাপৃত হন।



Contact Us:
Inside Dhaka:
2-3 working days
Outside Dhaka:
3-5 working days
Cash on Delivery :
Available
Refund Rules:
Within 7 DaysView Policy
Payment: